জ্বালানি ‘আতঙ্কে’ শেয়ারবাজারে বড় দরপতন

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের সংকট সৃষ্টি হতে পারে, এমন গুঞ্জনের পরিপ্রেক্ষিতে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। আতঙ্কে মাত্রাতিরিক্ত বিক্রির চাপ বাড়ানোয় সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার (৮ মার্চ) রীতিমতো ধস নেমেছে পুঁজিবাজারে।
প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার পাশাপাশি মূল্যসূচকের বড় পতন হয়েছে। তবে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে।
এর আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার কার্যদিবসেই দরপতন হয়। এতে এক সপ্তাহেই ডিএসইর প্রধান সূচক ৩৫৯ পয়েন্ট কমেছে। আর বাজার মূলধন কমেছে ২০ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা।
এই পতনের পর রোববার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। লেনদেনের সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দরপতনের মাত্র বাড়ে। ফলে ধস দিয়েই শেয়ারবাজারের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে মাত্র ১০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৭১টির। আর ৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২৩১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৯১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯১৯ পয়েন্টে নেমে গেছে।
মূল্যসূচকের বড় পতন হলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৫৩১ কোটি ৮৮ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪৫৯ কোটি ৪২ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৭২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৪১৯ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৬৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৪৫টির এবং ২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।
এমএমএইচ/জেডএস