বিজ্ঞাপন

মার্কেট সেন্টিমেন্ট সার্ভে

চলতি বছরের শেষে ডিএসইএক্স সূচক ৬ হাজার পয়েন্টে উঠতে পারে

অ+
অ-
চলতি বছরের শেষে ডিএসইএক্স সূচক ৬ হাজার পয়েন্টে উঠতে পারে

দেশের পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে আর্থিক প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা ও আইনের কঠোর প্রয়োগ সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর আস্থা ফিরলে চলতি ২০২৬ সালের শেষের দিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৬ হাজার পয়েন্টে উঠে আসতে পারে। তবে দৈনিক গড় লেনদেন ৪০০-৬০০ কোটি টাকার মধ্যে থাকার সম্ভাবনাই বেশি।  

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট সেন্টিমেন্ট সার্ভে ২০২৬-এ অংশগ্রহণকারীদের মতামতে বিষয়টি উঠে এসেছে। সম্প্রতি লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ এ সার্ভে পরিচালনা করেছে। এতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী, পেশাজীবী, শেয়ার লেনদেনে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী, স্বতন্ত্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ছাত্রসহ অন্যান্য শ্রেণীর মানুষ মতামত দিয়েছেন।

বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট সেন্টিমেন্ট সার্ভে ২০২৬-এ দেশের অর্থনীতি, পুঁজিবাজার ও আর্থিক বাজারের বিভিন্ন বিষয়ে অংশগ্রহণকারীরা তাদের মতামত তুলে ধরেছেন। এতে দেশের অর্থনীতি নিয়ে একধরনের মিশ্র ও সতর্ক আশাবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। ২৯ দশমিক ৭ শতাংশ উত্তরদাতার মতে, জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে থাকবে। রেমিট্যান্স ও রিজার্ভ নিয়ে তারা ইতিবাচক ধারণা পোষণ করেছেন। ৩৯ দশমিক ৬ শতাংশ মনে করেন, রেমিট্যান্স ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে এবং ৪৭ দশমিক ৫ শতাংশ মনে করেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হবে। 

বিজ্ঞাপন

৫৬ দশমিক ৪ শতাংশ উত্তরদাতার মতে, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা হলো অর্থনীতির সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। এছাড়া মূল্যস্ফীতি ও আর্থিক অস্থিরতাকেও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ৪৪ দশমিক ৬ শতাংশ মনে করেন ব্যাংক খাতের সংস্কার কিছুটা উন্নতি ঘটিয়েছে। যুবকদের কর্মসংস্থান এবং দুর্নীতি দমনকে ২০২৬ সালের প্রধান সংস্কারের ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

উত্তরদাতাদের বড় একটি অংশ ২৭ দশমিক ৭ শতাংশ আশা করছেন, ডিএসইএক্স সূচক ২০২৬ সাল শেষে ৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার পয়েন্টে গিয়ে দাঁড়াবে। দৈনিক গড় লেনদেন ৪০০-৬০০ কোটি টাকার মধ্যে থাকার সম্ভাবনা বেশি। পুঁজিবাজারে প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে ব্যাংক খাত সবচেয়ে এগিয়ে থাকবে বলে মনে করছেন ৪৬ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা। এর পরেই রয়েছে ওষুধ ও রসায়ন এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাত। ৪১ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা সাধারণ শেয়ার বা ইকুইটিকে সেরা সম্পদ হিসেবে মনে করছেন। এছাড়া ২৬ দশমিক ৭ শতাংশ উত্তরদাতা স্বর্ণে বিনিয়োগকে লাভজনক মনে করছেন। রাজনৈতিক ঝুঁকি (৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ) এবং সুশাসনের অভাবকে (২৩ দশমিক ৮ শতাংশ) পুঁজিবাজারে বিদেশী বিনিয়োগ আসার পথে প্রধান বাধা হিসেবে মনে করছেন উত্তরদাতারা।

জরিপে অংশগ্রহণকারী ৬১ দশমিক ৪ শতাংশ উত্তরদাতা বিশ্বাস করেন, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতা ও সততা বাড়বে। ৪১ দশমিক ৬ শতাংশ মনে করেন, বাজার কারসাজি ও জালিয়াতি হলো বর্তমান বাজারের সবচেয়ে বড় নৈতিক সমস্যা।

বিজ্ঞাপন

বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে আর্থিক প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা (৩১ দশমিক ৭ শতাংশ) এবং আইনের কঠোর প্রয়োগের (২৮ দশমিক ৭ শতাংশ) ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন উত্তরদাতারা। প্রায় ৪৬ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ইটিএফ, গ্রিন বন্ড ও রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্টের মতো নতুন পণ্য বাজারে আসা অত্যন্ত জরুরি।

এমএমএইচ/এমএসএ