বিজ্ঞাপন

পুঁজিবাজারের সাপ্তাহিক বিশ্লেষণ : ব্যাংক খাতে ভর করে পতন থেকে রক্ষা

অ+
অ-
পুঁজিবাজারের সাপ্তাহিক বিশ্লেষণ : ব্যাংক খাতে ভর করে পতন থেকে রক্ষা

কয়েক সপ্তাহ ধরেই দেশের পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতের শেয়ারে নিম্নমুখি ধারা দেখা যাচ্ছিল। তবে বিদায়ী সপ্তাহে ব্যাংক খাতের শেয়ারে ঊর্ধ্বমুখি ধারায় ফিরেছে। এ সময়ে ব্যাংক খাতের শেয়ারে ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এই খাতে ভর করে গত সপ্তাহে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেনও কিছুটা বেড়েছে। দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) গত সপ্তাহে সূচক ও লেনদেন বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইএক্স সূচক আগের সপ্তাহের তুলনায় ৩৮ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২৫৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৫ হাজার ২২০ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ২২ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৯৮০ পয়েন্ট। ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহে প্রায় ৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৬৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৫৯ পয়েন্ট।

ডিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৩৮৭টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৩৮টির, কমেছে ২২০টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ২৯টির। আর লেনদেন হয়নি ২৪টির। গত সপ্তাহে সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, সিটি ব্যাংক ও তাওফিকা ফুড অ্যান্ড লাভেলো আইসক্রিমের শেয়ার।

ডিএসইতে গত সপ্তাহে দৈনিক গড়ে ৬৬৯ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৬৬৮ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে দশমিক ২০ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, গত সপ্তাহের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্য এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ঘাটতি নিয়ে বিদ্যমান অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীদের মনোভাব নেতিবাচক ছিল, যা বাজারজুড়ে বড় ধরনের শেয়ার বিক্রির চাপ তৈরি করে। তবে সপ্তাহের চতুর্থ দিন যুদ্ধবিরতির খবরে পুঁজিবাজারে বড় উত্থান দেখা যায়। যদিও যুদ্ধবিরতির স্থায়ীত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতার কারণে শেষ কার্যদিবসে পয়েন্ট হারিয়েছে সূচক। তা সত্বেও ব্যাংক খাতের লভ্যাংশ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে এই খাতের উত্থানে সার্বিকভাবে সূচক পতন থেকে রক্ষা পায়।

খাতভিত্তিক লেনদেনে গত সপ্তাহে ওষুধ ও রসায়ন খাতের শেয়ারের আধিপত্য ছিল। লেনদেনচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। ১৪ দশমিক ২ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল প্রকৌশল খাত। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ব্যাংক খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৯ দশমিক ৩ শতাংশ। বস্ত্র খাত ৯ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ অবস্থানে ছিল। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা সাধারণ বীমা খাতের দখলে ছিল মোট লেনদেনের ৮ দশমিক ৮ শতাংশ।

ডিএসইতে গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি ২ দশমিক ৪ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে চামড়া খাতে। এ ছাড়া ব্যাংক এবং কাগজ ও মুদ্রণ খাতে ১ দশমিক ৭ শতাংশ, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ১ দশমিক ৪ শতাংশ এবং সিমেন্ট খাতে ১ দশমিক ৩ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। গত সপ্তাহে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে সবচেয়ে বেশি ২ দশমিক ৯ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এ ছাড়া এ সময়ে জীবন বীমা খাতে ২ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে ১ দশমিক ৮ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন ছিল।

বিজ্ঞাপন

সিএসইতে গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই দশমিক ৪৯ শতাংশ বেড়ে ১৪ হাজার ৭৭৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৪ হাজার ৭০১ পয়েন্ট। সিএসসিএক্স সূচকটি সপ্তাহের ব্যবধানে দশমিক ৬৩ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ৩৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৮ হাজার ৯৮৩ পয়েন্ট।

সিএসইতে গত সপ্তাহে ২৪৩ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৮৮ কোটি টাকা। আলোচ্য সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৯৭টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১২৩টির, কমেছে ১৪৪টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৩০টির বাজারদর।

এমএমএইচ/এনএফ