অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটদর সংশোধনের মধ্য দিয়ে সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার (১৬ জুন) লেনদেন শেষ হয়েছে দেশের শেয়ারবাজারে। এর আগে টানা তিন কার্যদিবস ঊর্ধ্বমুখী ছিল বাজার। ওই তিন দিনে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক প্রায় ১২৪ পয়েন্ট বেড়েছিল। ধারাবাহিক এই উত্থানের পর আজ এক্সচেঞ্জটির প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৩৫ পয়েন্ট হারিয়েছে। কমেছে অন্য সূচকগুলোও। আর সার্বিকভাবে বাজারে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত কয়েকদিনের উত্থানে অনেকগুলো সিকিউরিটিজের দাম বেড়েছে। এতে আজ দিনের শেষভাগে অনেক বিনিয়োগকারী তাদের মুনাফা তুলে নিতে শেয়ার ও ইউনিটের বিক্রি বাড়িয়েছেন। ফলে সার্বিকভাবে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, মঙ্গলবার লেনদেন শুরুর পর থেকেই ডিএসইতে কিছুটা অস্থিরতা বিরাজ করছিল। কখনো দাম বাড়ার তালিকা বড় হচ্ছিল, আবার কখনো দাম কমার তালিকা বড় হচ্ছিল। দিনশেষে অবশ্য দাম বাড়ার চেয়ে দাম কমার তালিক দ্বিগুণের চেয়েও বড় হয়েছে। এতে সার্বিকভাবে সবগুলো সূচকে নেতিবাচক পয়েন্ট যুক্ত হয়েছে।
আজ ডিএসইতে মোট ৩৯৬টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১০৯টির শেয়ার ও ইউনিটের। বিপরীতে কমেছে ২৪০টির দাম। আর ৪৭টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৩৫ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৬০৬ পয়েন্টে নেমে এসেছে। অন্য সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসইএস সূচক ৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১২৯ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১৮ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১১০ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে।
ঢাকার শেয়ারবাজারে লেনদেনেও গতি কমেছে। আজ ডিএসইতে মোট ১ হাজার ১৯৬ কোটি ১১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৪৫৬ কোটি ১২ লাখ টাকার। ফলে একদিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে প্রায় ২৬০ কোটি ১ লাখ টাকা।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) এদিন ৩০ কোটি ৯৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে যার পরিমাণ ছিল ৪২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। সিএসইতে আজ লেনদেন হওয়া ২৩৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৮টির দাম বেড়েছে, ১২৩টির কমেছে এবং ২৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১২৪ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ২৭২ পয়েন্টে নেমে এসেছে।
এমএমএইচ/এনএফ
