বিজ্ঞাপন

রিজেন্ট টেক্সটাইলের শেয়ার লেনদেন তদন্তের নির্দেশ

রিজেন্ট টেক্সটাইলের শেয়ার লেনদেন তদন্তের নির্দেশ

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানি রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের অস্বাভাবিক শেয়ারদর বৃদ্ধি ও সন্দেহজনক লেনদেন পরিলক্ষিত হওয়ায় এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বুধবার (১৭ জুন) বিএসইসির সার্ভেইল্যান্স বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার (সিআরও) কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠি ইস্যুর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে কমিশনের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

বিএসইসির সহকারী পরিচালক জুয়েল হোসেন শেখ স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে ডিএসইকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কোনো ধরনের সুপরিকল্পিত বা যোগসাজশমূলক কারসাজি এবং কৃত্রিম লেনদেন হয়েছে কিনা তা খুঁজে বের করা। নিষিদ্ধ ইনসাইডার ট্রেডিং ও অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্যের কোনো অপব্যবহার হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা। সংশ্লিষ্ট স্টক ব্রোকার, ডিলার এবং তাদের অনুমোদিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে মার্জিন রুলস ও কমিশনের নির্দেশনাবলি সঠিকভাবে পরিপালন করা হয়েছে কিনা তা যাচাই করা। সন্দেহজনক এ লেনদেনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউজ বা প্রতিনিধিদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা কিংবা লেনদেন ঠেকাতে অবহেলা ছিল কিনা তা নির্ধারণ করা। সিকিউরিটিজ সংক্রান্ত অন্য কোনো আইন বা বিধিমালার লঙ্ঘন হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা।

তদন্তের পাশাপাশি ডিএসইকে সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, কমপ্লায়েন্স অফিসার ও অনুমোদিত প্রতিনিধিদের মধ্যে এ ধরনের সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিরোধে সচেতনতার বিষয়েও বিএসইসির পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে এ ধরনের লেনদেন সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক-ডিলার, স্টক-ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা, ২০০০-এর দ্বিতীয় তফসিলের আচরণবিধি ৬ ও ৮ এবং বিধি ১১-এর পরিপন্থি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনীয় লেনদেনের তথ্য ডিএসইকে সহযোগিতা করার জন্য এ চিঠির একটি অনুলিপি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা বরাবরও পাঠানো হয়েছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ৩০ এপ্রিল ডিএসইতে রিজেন্ট টেক্সটাইলের শেয়ারদর ছিল ৩ টাকা ৯০ পয়সা। সর্বশেষ বুধবার কোম্পানিটির শেয়ারদর ৬ টাকা ৮০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে শেয়ারটির দর বেড়েছে ৭৪ শতাংশ।

সর্বশেষ ২০২০-২১ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক তথ্য প্রকাশ করেছে রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলস। এরপর থেকে কোম্পানিটি কোনো আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে না। ফলে কোম্পানিটির প্রকৃত আর্থিক ও ব্যবসায়িক তথ্য জানতে পারছেন না বিনিয়োগকারীরা। আলোচ্য হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি কোম্পানিটি।

২০২০-২১ হিসাব বছরে রিজেন্ট টেক্সটাইলের কর-পরবর্তী নিট লোকসান হয়েছে ২০ কোটি ৮০ লাখ টাকার বেশি, আগের হিসাব বছরে যা ছিল প্রায় ৪ কোটি টাকা। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১ টাকা ৬২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩১ পয়সা।

২০১৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রিজেন্ট টেক্সটাইলের অনুমোদিত মূলধন ১৫০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১২৮ কোটি ৬১ লাখ ২০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ১৪০ কোটি ৫ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১২ কোটি ৮৬ লাখ ১২ হাজার ১৩৭। এর ৫৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৪ দশমিক ৬১ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৪০ দশমিক ৮৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

এমএমএইচ/জেডএস