বিজ্ঞাপন

বন্ধ আজিজ পাইপসের শেয়ারে অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি

বন্ধ আজিজ পাইপসের শেয়ারে অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত স্বল্পমূলধনী কোম্পানি আজিজ পাইপস লিমিটেডের ব্যবসায় গত কয়েক বছর ধরেই মন্দা যাচ্ছে। এরমধ্যে দুই ব্যাংকের ঋণ আদায়ে আইনগত পদক্ষেপও চলমান রয়েছে। কোম্পানিটি চরম অর্থ সংকটে গত বছরের ১ মে উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। এ অবস্থায় কোম্পানিটির ভবিষ্যতে উৎপাদনে ফেরার সম্ভাবনাও ক্ষীণ। তারপরও সম্প্রতি কোম্পানিটির শেয়ার দর অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ৬ এপ্রিল আজিজ পাইপসের শেয়ার দর ছিল ৪৭ টাকা ১০ পয়সায়, যা ১৭ জুন লেনদেন শেষে দাঁড়িয়েছে ৭৮ টাকা ৭০ পয়সায়। অর্থাৎ আড়াই মাসের ব্যবধানে শেয়ারটির দর বেড়েছে ৩১ টাকা ৬০ পয়সা বা ৬৭ শতাংশ।

অথচ কোম্পানিটি কয়েক বছর ধরে লোকসানে রয়েছে। এতে করে পুঞ্জীভূত লোকসান হয়ে গেছে ৫৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। কোম্পানিটির ইক্যুইটি বা নিট সম্পদ ঋণাত্মক দাঁড়িয়েছে ২৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকায়। এ অবস্থার মধ্যে ঋণ আদায়ে ব্যাংকের আইনগত পদক্ষেপ বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কোম্পানিটির ব্যবসা পরিচালনা বা টিকিয়ে রাখার সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন নিরীক্ষক।

জানা গেছে, উত্তরা ব্যাংকের কাছে আজিজ পাইপসের ২২ কোটি ৮৯ লাখ টাকার ঋণ নেওয়া রয়েছে। যা এখন বিচারাধীন। কোম্পানিটির কাছে ২০১৮ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত সময়ে সুদসহ ৭২ কোটি ৫১ লাখ টাকা দাবি করে আইনগত পদক্ষেপ নিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ডাচ-বাংলা ব্যাংকের প্রদত্ত ৭ কোটি ৫১ লাখ টাকার ঋণ রয়েছে কোম্পানিটিতে। যে ঋণের বিপরীতে ২০২২ সালের ২০ অক্টোবর পর্যন্ত সময়কালীন ৩৪ কোটি ৬ লাখ টাকা দাবি করে মামলা দায়ের করেছে।

এরমধ্যেই আজিজ পাইপসের শেয়ারের এই দর অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। এ নিয়ে কোম্পানি কর্তৃপক্ষের কাছে কারণ জানতে চেয়ে ব্যাখ্যা চায় ডিএসই কর্তৃপক্ষ। ডিএসইর ব্যাখ্যা তলবের উত্তরে কোম্পানির পক্ষ থেকে সম্প্রতি জানানো হয়েছে, কোনো রকম অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই তাদের শেয়ার দর এভাবে বাড়ছে।

উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া আজিজ পাইপসের পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এরমধ্যে শেয়ারবাজারের বিভিন্ন শ্রেণির (উদ্যোক্তা/পরিচালক ব্যতিত) বিনিয়োগকারীদের মালিকানা ৮৮.৮৪ শতাংশ।

এমএমএইচ/জেডএস