বিজ্ঞাপন

ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের ১১দিনেও ক্রেতা সংকট কাটেনি বেক্সিমকোর

ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের ১১দিনেও ক্রেতা সংকট কাটেনি বেক্সিমকোর

ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের পর ভয়াবহ ক্রেতা সংকটে পড়েছে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো। এতে কোম্পানিটির শেয়ারে প্রতিদিন বড় দরপতন হচ্ছে। ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়ার পর ১১ কার্যদিবসেই কোম্পানিটির শেয়ার দাম ৬৮ শতাংশের বেশি কমেছে। ফলে সম্মিলিতভাবে মোট শেয়ারের বিপরীতে কোম্পানির বাজার মূলধন ৭ হাজার কোটি টাকার ওপরে কমে গেছে।

এমন পতনের কারণে বেক্সিমকোর শেয়ারে বিনিয়োগ করা বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের লোকসানের মধ্যে পড়েছেন। লোকসান মেনে নিয়ে কোনো কোনো বিনিয়োগকারী দিনের সর্বনিম্ন দামে শেয়ার বিক্রির চেষ্টা করলেও ক্রেতা পাচ্ছেন না।

ফলে ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের পর লেনদেন হওয়া ১১ কার্যদিবসের প্রত্যেক দিনই কোম্পানিটির শেয়ার দাম যতটা কমা সম্ভব ততটাই কমেছে। প্রতি কার্যদিবসেই দিনের সর্বনিম্ন দামে বিপুল শেয়ার বিক্রির আদেশ আসছে। বিপরীতে শূন্য পড়ে থাকছে ক্রয় আদেশের ঘর।

দেশের শেয়ারবাজারে প্রথম ফ্লোর প্রাইস আরোপ করা হয় ২০২০ সালে। তখন করোনো মহামারির প্রকোপ দেখা দিলে বাজারে লাগাতার পতন হতে থাকে। সেই পতন ঠেকাতে না পেরে প্রথমবার ওই বছরের মার্চে ফ্লোর প্রাইস আরোপ করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

তবে ২০২১ সালের জুলাইয়ে তা তুলে নেওয়া হয়। এরপর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে শেয়ারবাজারে দরপতন দেখা দিলে ২০২২ সালের জুলাইয়ে আবারও ফ্লোর প্রাইস আরোপ করে বিএসইসি। এ পর্যায়ে শেয়ার লেনদেন ব্যাপক কমে গেলে সমালোচনায় পড়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে পর্যায়ক্রমে ফ্লোর প্রাইস তুলে নেয় বিএসইসি।

তবে অদৃশ্য কারণে বেক্সিমকো ও ইসলামী ব্যাংকের ফ্লোর প্রাইস অব্যাহত রাখা হয়। স্টেকহোল্ডারদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অবশেষে গত ৮ জুন কোম্পানি দুটির ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসইসির নতুন নেতৃত্ব। যে সিদ্ধান্ত কার্যকর হয় গত ৯ জুন।

ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার পর দুটি কোম্পানিই বড় ধরনের দরপতনের মধ্যে পড়ে। অবশ্য দুই কার্যদিবস পতনের পর ১১ জুন থেকেই ঘুরে দাঁড়ায় ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার। কিন্তু বেক্সিমকোর শেয়ারের দাম কমার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। আগের ১০ কার্যদিবসের মতো আজ মঙ্গলবারও (২৩ জুন) বেক্সিমকোর শেয়ারের ক্রেতা সংকট অব্যাহত থাকে।

এদিন শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হতেই দিনের সর্বনিম্ন দামে বেক্সিমকোর কয়েক কোটি শেয়ার বিক্রির আদেশ আসে। বিপরীতে শূন্য ছিল ক্রয় আদেশের ঘর। আগের ১০ কার্যদিবসেও একই চিত্র ছিল। এতে ১১ কার্যদিবসের ব্যবধানে ১১০ টাকা ১০ পয়সা থেকে কমে কোম্পানিটির শেয়ার দাম ৩৪ টাকা ৯০ পয়সায় নেমে এসেছে। অর্থাৎ প্রতিটি শেয়ারের দাম কমেছে ৭৫ টাকা ২০ পয়সা বা ৬৮ দশমিক ৩০ শতাংশ। ফলে সম্মিলিতভাবে কোম্পানিটির শেয়ার দাম কমেছে ৭ হাজার ৯৩ কোটি ১৩ লাখ ৬৬ হাজার ৯০২ টাকা।

এমএমএইচ/এসএম