বিজ্ঞাপন

বাজার মূলধন বাড়লেও জিডিপি অনুপাতে সংকুচিত হচ্ছে শেয়ারবাজার

বাজার মূলধন বাড়লেও জিডিপি অনুপাতে সংকুচিত হচ্ছে শেয়ারবাজার

বেসরকারি খাতে দেশের শেয়ারবাজার থেকে অর্থের জোগান দিতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও অনুমোদন দুই বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) অনুপাতে শেয়ারবাজারের আকার আরও ছোট হয়ে এসেছে।

সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের বড় শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ‘মার্কেট ক্যাপ টু জিডিপি’ অনুপাত দশমিক ৫১ শতাংশ কমে ১১ দশমিক ৪২ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থাৎ জিডিপির আকার অনুযায়ী শেয়ারবাজারের বাজার মূলধনের অনুপাত আরও সংকুচিত হয়েছে। যদিও বিদায়ী অর্থবছরে ডিএসইর বাজার মূলধন ৩৬ হাজার কোটি টাকার বেশি বেড়েছে।

গত ৩০ জুন শেষে ডিএসইতে সরকারি বন্ডসহ সব সিকিউরিটিজের বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৮ হাজার ৬৯২ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময় শেষে যা ছিল ৬ লাখ ৬২ হাজার ২৭১ কোটি টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে সব সিকিউরিটিজের বিপরীতে বাজার মূলধন বেড়েছে ৩৬ হাজার ৪২১ কোটি টাকা। তবে এই সময়ে সরকারি বন্ড বাদে অন্য সিকিউরিটিজের বাজার মূলধন বেড়েছে ৩৫ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকা।

গত ৩০ জুন শেষে এসব সিকিউরিটিজের বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা। আগের অর্থবছর শেষে যা ছিল ৩ লাখ ২৯ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। বাজার মূলধন এই বড় অংকে বাড়া সত্ত্বেও এক বছরের ব্যবধানে গত অর্থবছর শেষে জিডিপির আকার অনুযায়ী বাজার মূলধন অনুপাত ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ থেকে কমে ১১ দশমিক ৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্বের বড় অর্থনীতির দেশগুলোতে ‘মার্কেট ক্যাপ টু জিডিপি’ অনুপাত ১০০ থেকে ২০০ শতাংশ বা তার বেশি হয়ে থাকে। উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলোতেও এই অনুপাত ৫০ শতাংশ থেকে প্রায় সমান হয়। এই অনুপাত দেখে বুঝা যায় যে, একটি দেশের অর্থনীতির তুলনায় সেই দেশের পুঁজিবাজার কতটা শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারের বাজার মূলধন দেশেটি জিডিপির তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। আর সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাজ্যের ‘মার্কেট ক্যাপ টু জিডিপি’ অনুপাত ৯১ থেকে ১২০ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও এই অনুপাত ১২৫ থেকে ১৩৭ শতাংশের মধ্যে মধ্যে ওঠানামা করছে। অথচ বাংলাদেশে যার হার মাত্র ১১ শতাংশের ঘরে। এখানে এটি স্পষ্ট যে, দেশের অর্থনীতির তুলনায় শেয়ারবাজার অবমূল্যায়িত হয়ে রয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, যে দেশের শেয়ারবাজার যত বেশি শক্তিশালী, সেই দেশের অর্থনীতিতে সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণও তত বেশি হয়। বিশ্বব্যাপী অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত এই বিনিয়োগ বাজারকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। অথচ আমাদের দেশে প্রতি বছর জিডিপি প্রবৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিতে না পেরে শেয়ারবাজার পিছিয়ে পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে গুরুত্ব বাড়ানো উচিত। এতে দেশের শেয়ারবাজার সম্প্রসারণ হওয়ার পাশাপাশি শিল্পখাতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়বে।

আইপিওহীন আরও একটি বছর

দেশের বেসরকারি খাতের দিকে তাকালে দেখা যায় যে, শেয়ারবাজার থেকে এই খাতে অর্থ নেওয়ার হার খুবই কম। অথচ শেয়ারবাজার মূলত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য, যেসব প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি মূলধনের প্রয়োজন সেগুলো সরাসরি এই বাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করবে, সেজন্যই গড়ে উঠেছিল। বিপরীতে দেশে সক্রিয় লক্ষাধিক কোম্পানির মধ্যে চারশ কোম্পানিও শেয়ারবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করেনি।

সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুন মাসে শেয়ারবাজার থেকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকা অর্থ সংগ্রহ করেছিল টেকনো ড্রাগস লিমিটেড। এরপর শেয়ারবাজারে আর কোনো আইপিও আসেনি। যদিও ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে শেয়ারবাজারে আইপিওর প্রবাহ ছিল উল্লেখযোগ্য। ২০২৩-২৪ অর্থবছর থেকে সেই ধারা কমতে শুরু করে এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আরও সংকুচিত হয়। এরপর ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শেয়ারবাজার থেকে আইপিওর মাধ্যমে এক টাকা বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ হয়নি।

এ বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দায়িত্ব পাওয়া খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন বিএসইসি কমিশন আইপিও নীতিমালাসহ বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত থাকায় নতুন কোম্পানি আনার বিষয়টি প্রত্যাশা অনুযায়ী গুরুত্ব পায়নি। আইপিও প্রক্রিয়া সচল রাখতে একটি মধ্যপন্থা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত সেটিও বাস্তবায়ন হয়নি। নতুন আইপিও না থাকলে বাজারে বিনিয়োগের সুযোগ ও গভীরতা- দুটিই কমে যায়। আইপিও ছাড়া কার্যকর পুঁজিবাজার কল্পনা করা যায় না।

শেয়ারবাজার থেকে বেসরকারি খাতে অর্থ নেওয়ার প্রবণতা বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গত ১৫ বছরে মাত্র ১৪৭টি কোম্পানি ১০ হাজার ৭১৪ কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে ছয়টি ব্যাংক মোট ১ হাজার ২৪৩ কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহ করেছে। ১৭টি বিমা কোম্পানি সম্মিলিতভাবে ২৪৫ কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহ করেছে। এছাড়া দুটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ৯৫ কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহ করেছে। অর্থাৎ আর্থিক ও বিমা খাতের ২৫টি কোম্পানি গত ১৫ বছরে ১ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহ করেছে।

আইন অনুযায়ী, ব্যাংক, বিমা এবং ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া বাধ্যতামূলক। জনগণের অর্থে চলা এসব কোম্পানির সুশাসন নিশ্চিতে একক কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছে কেন্দ্রীভূত হওয়া ঠেকাতেই এ ব্যবস্থা। ওই শর্ত পরিপালনে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আর্থিক ও বিমা কোম্পানিগুলো শেয়ারবাজার থেকে অর্থ নিলেও শিল্পখাতে এটি গুরুত্ব পায়নি।

গত অর্থবছরে শেয়ারবাজার কেমন ছিল

টানা দুই বছর আইপিও না এলেও সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শেয়ারবাজারের সূচক, লেনদেন ও বাজার মূলধনসহ বিভিন্ন পরিসংখ্যানে উন্নতি হয়েছে। বিশেষ করে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার হওয়ার পর বর্তমান সরকারের চার মাসে শেয়ারবাজার অনেকটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এই চার মাসের উত্থানে পুরো অর্থবছরের জন্য ইতিবাচক বার্তা বয়ে এনেছে। গত অর্থবছরে বড় শেয়ারবাজার ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১৯ শতাংশের বেশি বেড়ে ৫ হাজার ৭৬৩ পয়েন্টে উঠেছে। এক্সচেঞ্জটির বাছাই করা ভালো ৩০টি শেয়ারের সূচক ডিএস-৩০ বছরের ব্যবধানে প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ১৭৮ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে। আর গত ৩০ জুন শেষে ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ১০ শতাংশের বেশি বেড়ে ১ হাজার ১৬৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

সূচকের পাশাপাশি গত অর্থবছরে ঢাকার এই শেয়ারবাজারে লেনদেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আলোচিত অর্থবছরে এই বাজারে ১ লাখ ৭২ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১১ হাজার ৩৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে শেয়ারবাজারে লেনদেন বেড়েছে ৫৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ। একইসঙ্গে বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের লেনদেনেও উল্লেখযোগ্য গতি এসেছে। গত অর্থবছরে দেশের বাইরে থেকে ৪ হাজার ৯৪৩ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন করেছে। আগের অর্থবছরে এই লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৯৪১ কোটি টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে বিদেশি ও প্রবাসীদের লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে ১ হাজার কোটি টাকার বেশি।

মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে শেয়ার ক্রয়-বিক্রির পরিমাণও আলোচিত অর্থবছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেড়েছে। গত ৩০ জুন পর্যন্ত এক বছরে মোবাই অ্যাপের মাধ্যমে ২৮ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে। এই লেনদেন আগের অর্থবছরের ১৬ হাজার ৯২ কোটি টাকার চেয়ে প্রায় ৭৯ শতাংশ বেশি। আলোচিত অর্থবছরে ডিএসইর এসএমই মার্কেটের লেনদেন প্রায় দেড় শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮০৯ কোটে টাকায় উন্নীত হয়েছে। আর বছরটিতে এটিবি বোর্ডের লেনদেন প্রায় ৭৪ শতাংশ বেড়েছে।

গত অর্থবছরে শেয়ারবাজারের মাধ্যমে সরকারি সিকিউরিটিজ (বন্ড) লেনদেনেও গতি বেড়েছে। আলোচিত অর্থবছরে শেয়ারবাজার থেকে ১৬০ কোটি টাকার সরকারি বন্ড লেনদেন হয়েছে, যা আগে বছরের তুলনায় ৯ শতাংশ বেশি। আগের বছরে ১৪৭ কোটি টাকার বন্ড ইউনিট লেনদেন হয়েছিল।

গত অর্থবছর আইপিওহীন হলেও শেয়ারবাজারে ইকুইটি মূলধনের (কোম্পানি শেয়ারের মূল্যে) আধিপত্য বেড়েছে। বছরের ব্যবধানে কোম্পানির সংখ্যা ৩৬০টিতে অপরিবর্তিত থাকলে বাজার মূলধনে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। আগের অর্থবছরে শেয়ারবাজারে ইকুইটি মূলধনের হার ৪৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ ছিল। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছর শেষে এটি বেড়ে ৫১ দশমিক ৩২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। আর সরকারি বন্ডের সংখ্যা বছরের ব্যবধানে ২৩৪টি থেকে ২২০টিতে নেমেছে। এতে সরকারি বন্ডের বাজার মূলধনের হারও ৪৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে ৪৭ দশমিক ৬৯ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে অর্থবছরটিতে কর্পোরেট বন্ডের বাজার সামান্য বেড়েছে। আর কমেছে মিউচুয়াল ফান্ডের বাজার। তবে ডিবেঞ্চারের বাজার অপরিবর্তিত রয়েছে।

দুর্বলতায় ঘেরা ভালো পারফর্মেন্স

সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে শেয়ারবাজারের সূচক, লেনদেন ও বাজার মূলধন বাড়লেও এটিকে অর্থনীতির আকারের তুলনায় দুর্বল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, বাজারে যেই উত্থান দেখা গেছে, সেটি মূলত দুর্বল কোম্পানির ওপর নির্ভর হয়ে বেড়েছে। এটি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা খুবই সামান্য, যদি না ভালো কোম্পানিগুলো বাজারে আনা সম্ভব হয়। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৬০টি কোম্পানির মধ্যে বর্তমানে ১২৫টিই ‘জেড’ শ্রেণিভুক্ত হয়ে আছে। এর মধ্যে ৬২টি কোম্পানির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বাকিগুলোর অবস্থাও ভালো নেই। লভ্যাংশ দেওয়ার সক্ষমতাও অনেক কোম্পানিরই নেই। এমন পরিস্থিতিতে ভালো কোম্পানি আনার বিকল্প নেই বলে মনে করছেন অনেকেই।

এ বিষয়ে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিদ্যমান পরিস্থিতি ঠিক করতে দুটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রথমত, শেয়ারবাজারে যে কোম্পানিগুলো আছে, সেগুলোকে ভালো করে তুলতে হবে। যেটি আপাত দৃষ্টিতে দ্রুত সময়ে সম্ভব নয়। দ্বিতীয়ত, নতুন কিছু ভালো কোম্পানি আনতে হবে। এজন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ নিতে হবে।

শেয়ারবাজার বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. আল-আমিন বলেন, বাজারে যেই কোম্পানিগুলো আছে, তার অধিকাংশই এখন দুর্বল। ব্যাংক, এনবিএফআই ও বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর অবস্থাও শোচনীয়। এর মধ্যে যেই কোম্পানিগুলো ভালো রয়েছে, সেগুলোও উচ্চমূল্যে উঠে গেছে। ফলে বাজারে বিনিয়োগকারীর জন্য বিনিয়োগযোগ্য ভালো শেয়ারের খুবই অভাব। অথচ বাজারের স্বার্থে নতুন বিনিয়োগকারীও আনতে হবে, আবার নতুন ও ভালো কোম্পানিও আনতে হবে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আবুল কালাম বলেন, ভালো কোম্পানি আনতে এরই মধ্যে আইপিও বিধিমালায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সিকিউরিটিজ ভ্যালুয়েশন স্ট্যান্ডার্ডস অন্তর্ভুক্ত করায় আইপিও প্রক্রিয়া আরও সহজ হয়েছে। বর্তমান কমিশন বেস্ট প্রাইসিংয়ের মাধ্যমে মানসম্পন্ন কোম্পানি বাজারে আনতে কাজ করছে। এ ছাড়া তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য আড়াই শতাংশ কর ছাড়ের সুবিধাও এবার যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি ইস্যুয়ার কোম্পানি, বিএপিএলসি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনও ভালো কোম্পানিকে বাজারে আনতে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাই আশা করা যাচ্ছে শিগগিরই ভালো কিছু কোম্পানি আসবে এবং বাজার পরিধি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বড় হবে।

এমএমএইচ/এসএম