শিগগিরই মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা, মার্জিন ইস্যু রুলস এবং পাবলিক ইস্যু রুলস পরিবর্তন করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান।
তিনি বলেন, বাজার ঠিক করতে হলে এই বিধিমালাগুলোতে পরিবর্তন আনতে হবে। একটি কোম্পানি কেন আইপিওতে আসে না? তাদের এক বস্তা কাগজ জমা দিতে হয়। এ ছাড়া, দেড় বছর অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু ব্যাংকে গেলে দ্রুত সময়ে অর্থ পায় উদ্যোক্তারা। তাই আমরা আইপিও প্রক্রিয়া সহজীকরণ করতে চাই।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর বিজয়নগরে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) আয়োজিত ‘সিএমজেএফ টক’-এ তিনি এসব কথা বলেন। এতে সিএমজেএফের সভাপতি মনির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব রাসেলসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, আগামীতে ইউনিলিভার, ইনসেপটার মতো কোম্পানিকে ডাইরেক্ট লিস্টিং করা হবে। বর্তমানে শুধুমাত্র সরকারি কোম্পানি ২৫ শতাংশ শেয়ার অফলোডের মাধ্যমে ডাইরেক্ট লিস্টিং হতে পারে। তবে আগামীতে সব ধরনের কোম্পানি ১০ শতাংশ অফলোড করেই এমনটি হতে পারবে।
তিনি বলেন, মার্জিন রুলসে বর্তমান আইনে এতগুলো শর্ত আছে, যেখানে মার্জিন ঋণ নেওয়ার সুযোগ খুবই কম। আগামী সপ্তাহের মধ্যে মার্জিন ঋণ নিয়ে একটি খসড়া প্রকাশ হবে। যেটি গেজেট আকারে প্রকাশ পেলে খুব সহজেই মার্জিন ঋণ নেওয়া যাবে।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পরেই অনেকের নেতিবাচক মন্তব্যের পরেও তিনি বিতর্কিত ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এ ছাড়া, বহির্বিশ্বে সম্মান রক্ষার জন্য লন্ডনে বেক্সিমকো ফার্মার তালিকা চ্যুতি ঠেকানোর উদ্যোগ নেন।
শেয়ার বাজারে দীর্ঘদিনের চাহিদা সেটেলমেন্ট টি+১ করার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। তিনি এটা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেছেন।
শেয়ার বাজারের অপরাধীদের জেল ও আর্থিক জরিমানা নিশ্চিতে কমিশন কাজ করছে বলে জানান তিনি। কারণ বর্তমানে বিএসইসি জরিমানা ও শাস্তি দিলেও তা আদালতে আটকে যায়। এ কারণে বিগত কমিশন ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা জরিমানা করলেও আদায় হয়েছে মাত্র ৩৩ লাখ টাকা। এ সমস্যা সমাধানে বিএসইসি ইতোমধ্যে আদালতে বিশেষ বেঞ্চ করার উদ্যোগ নিয়েছে। এ ছাড়া, শেয়ার বাজার বিষয়ক ট্রাইবুন্যালে সরাসরি মামলা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বন্ড মার্কেট সক্রিয় করতে আগামীতে বন্ডকে অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডের পরিবর্তে মূল মার্কেটে তালিকাভুক্ত করা হবে। এ ছাড়া, ডেরিভেটিবস চালুর জন্য বিএসইসি সক্রিয় রয়েছে। এটা চালু করতেই হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডিএসই তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ এবং বাতিল করতে পারে। সেখানে বিএসইসি হস্তক্ষেপ করতে পারে না। তারা তাদের আইন অনুযায়ী চাকুরিচ্যুত করেছে। এ ছাড়া, বিএসইসি থেকে চাকুরিচ্যুতদের বিষয়ে এ মাসে সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এমএমএইচ/এসএএস
