বিজ্ঞাপন

শেয়ারবাজারে ডে নেটিং চালুর উদ্যোগ, সুবিধা ও অসুবিধা কি?

শেয়ারবাজারে ডে নেটিং চালুর উদ্যোগ, সুবিধা ও অসুবিধা কি?

তারল্য ও লেনদেন বাড়াতে ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির শেয়ারে ‘ডে নেটিং’ সুবিধা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। প্রাথমিকভাবে ভালো মানের কিছু কোম্পানির শেয়ারে এ সুবিধা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরে অন্যান্য শেয়ারেও এই পদ্ধতি চালু হতে পারে।

ডে নেটিং হলো এমন একটি লেনদেন ব্যবস্থা, যেখানে একজন বিনিয়োগকারী একই কার্যদিবসে একটি শেয়ার কিনে একই দিনে বিক্রি করতে পারেন। অর্থাৎ শেয়ারটি বিনিয়োগকারীর বেনেফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাবে জমা হওয়ার জন্য কিংবা লেনদেন নিষ্পত্তির জন্য অপেক্ষা করতে হয় না।

বর্তমানে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, একটি শেয়ার কেনার পর দুই কার্যদিবস পর এটি ম্যাচিউর হয়। অর্থাৎ দুই কার্যদিবস পর শেয়ারটি লেনদেনের জন্য উপযুক্ত হয়। ডে নেটিং চালু হলে লেনদেনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না।

ধরা যাক, একজন বিনিয়োগকারী লেনদেনের শুরুতে সকাল ১০টার দিকে একটি কোম্পানির কিছুসংখ্যক শেয়ার কিনলেন। দিনের লেনদেন চলাকালীন কোন একটি সময়ে ওই শেয়ারের দাম বেড়ে গেলে তিনি শেয়ারগুলো বিক্রি করে দিতে পারবেন। দিন শেষে তার কেনা ও বিক্রির হিসাব সমন্বয় করা হবে। ফলে একই দিনে শেয়ারে কেনাবেচা সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার শেয়ারবাজার-সংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানে বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, সম্প্রতি ব্রোকারেজ হাউসগুলোর সংগঠন ডিবিএর পক্ষ থেকে সব শেয়ারে ডে নেটিং সুবিধা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে সব কোম্পানির ক্ষেত্রে এ সুবিধা চালু করা বাস্তবসম্মত নয়। তাই প্রাথমিকভাবে ভালো মানের কোম্পানির শেয়ারে এই সুবিধা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, শুরুতে প্রায় ৩০টি ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির শেয়ারে ডে নেটিং চালুর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এ সুবিধা চালু হলে বিনিয়োগকারীরা একই দিনে ওই কোম্পানিগুলোর শেয়ার কিনে বিক্রি করার সুযোগ পাবেন, যা বাজারে তারল্য বাড়াতে সহায়ক হবে।

অন্যান্য শেয়ারে লেনদেন নিষ্পত্তির সময়ও ধাপে ধাপে কমিয়ে আনতে কাজ চলছে বলে জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান। ‘লক্ষ্য হচ্ছে এসব শেয়ারের নিষ্পত্তি ব্যবস্থা +১ সেটেলমেন্ট আওতায় নিয়ে আসা। এতে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কেনার এক দিন পরই তা বিক্রি করতে পারবেন। ফলে বাজারে লেনদেনের গতি আরও বাড়বে’, যোগ করেন তিনি।

ডে নেটিং চালুর সুবিধা কি?

এই পদ্ধতি চালু হলে একই দিনে কেনা শেয়ার একই দিন বিক্রি করার সুযোগ পাবেন বিনিয়োগকারী। এতে একই অর্থ বারবার বিনিয়োগ করে বেশি মুনাফা তুলে নেয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এছাড়া এই পদ্ধতিতে বাজারে তারল্য বাড়বে। এছাড়া স্বল্পমেয়াদি মূল্য পরিবর্তনের সুযোগ কাজে লাগানো সহজ হবে। আর ব্রোকারেজ হাউসগুলোর লেনদেনও বাড়তে। যাতে তাদের টিকে থাকার সক্ষমতা বাড়বে।

ঝুঁকি কী?

ডে নেটিং সুবিধা যেমন সুযোগ তৈরি করবে, তেমনি কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। অতিরিক্ত স্বল্পমেয়াদি লেনদেন বাড়তে পারে। অনভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরা দ্রুত লাভের আশায় বেশি ঝুঁকি নিতে পারেন। বাজারে অস্থিরতা ও মূল্য ওঠানামা বাড়ার আশঙ্কা থাকে। কার্যকর নজরদারি না থাকলে কারসাজির সুযোগও তৈরি হতে পারে।

বিএসইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুরুতেই সব কোম্পানির শেয়ারে ডে নেটিং চালু করা হলে দুর্বল মৌলভিত্তির শেয়ারে অতিরিক্ত জল্পনা-কল্পনা এবং মূল্য কারসাজির ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ কারণে প্রাথমিকভাবে ভালো মৌলভিত্তি, উচ্চ বাজারমূলধন ও বেশি তারল্যসম্পন্ন প্রায় ৩০টি কোম্পানির শেয়ারে এই সুবিধা চালুর কথা ভাবছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

এমএমএইচ/এমএন

বিজ্ঞাপন