বিজ্ঞাপন

সপ্তাহের শেষদিনে শেয়ারবাজারে বড় পতন, লেনদেনেও ভাটা

সপ্তাহের শেষদিনে শেয়ারবাজারে বড় পতন, লেনদেনেও ভাটা

দেশের শেয়ারবাজারে সূচকের বড় পতনের মধ্যে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবারের লেনদেন শেষ হয়েছে। নতুন কমিশন গঠনের পর আজকেই সব থেকে বেশি সূচকের পতন হয়েছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাজার নিয়ে হতাশা থাকলেও বাজার সংশ্লিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা এই পতনকে স্বাভাবিক মূল্যসংশোধন বলছেন।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেয়া শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে ৩১০টির দাম কমেছে। বিপরীতে দাম বেড়েছে মাত্র ৫৯টি প্রতিষ্ঠানের। আর দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ২০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের।

বেশির ভাগ শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৬৬ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৮০৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। শরিয়াভিত্তিক তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান নিয়ে গঠিত শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ১৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৮৩ পয়েন্টে স্থির হয়েছে। আর ভালো মৌল ভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস ৩০ সূচক ২৩ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৯২ পয়েন্টে থেমেছে।

ঢাকার এই শেয়ারবাজারে লেনদেনেও ভাটা দেখা গেছে। ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৯৩৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ২১১ কোটি টাকা।

অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ১৫৮ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ ২৬২ নেওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৪টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৮৬টির এবং ২২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ২০ কোটি ১৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।

দেশের অর্থনীতি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকার পরও শেয়ারবাজারে সাম্প্রতিক দরপতনকে 'স্বাভাবিক মূল্য সমন্বয়' হিসেবে দেখছেন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম। তার মতে, বাজারে বড় ধরনের পতন ঘটার মতো কোনো নেতিবাচক ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে এবং দেশের অর্থনীতিও আগের চেয়ে ধীরে ধীরে ভালো করছে। 

তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শেয়ারবাজারে সূচক এবং লেনদেন- উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক গতি দেখা গেছে। ফলে সাম্প্রতিক এই দরপতনকে কোনো সংকট না ভেবে স্বাভাবিক হিসাব-নিকাশের অংশ হিসেবেই দেখা উচিত।

এমএমএইচ/বিআরইউ