একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন শুরু ৮ ডিসেম্বর

Dhaka Post Desk

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:৫৮ পিএম


একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন শুরু ৮ ডিসেম্বর

উচ্চ মাধ্যমিকে (একাদশ শ্রেণি) অনলাইন ভর্তির প্রথম ধাপের আবেদন আগামী ৮ ডিসেম্বর শুরু হবে। ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন ধাপে আবেদন গ্রহণ ও মেধাতালিকা প্রকাশ করা হবে। তালিকাভুক্তদের নির্ধারিত সময়ে ভর্তির জন্য ৩২৮ টাকা দিয়ে নিশ্চয়ন করতে হবে। ২২ থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ভর্তি গ্রহণ চলবে। 

এরপর ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ক্লাস শুরু হবে। ভর্তির জন্য এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ ৫ হাজার আর ননএমপিওতে সর্বোচ্চ সাড়ে ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার (৭ ডিসেম্বর) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার স্বাক্ষরিত ভর্তি সংক্রান্ত এ নীতিমালা জারি করা হয়।

যারা আবেদন করতে পারবে
২০২০, ২০২১ ও ২০২২ সালে দেশের যে কোনো শিক্ষা বোর্ড এবং উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষা পাস করা শিক্ষার্থীরা একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্যান্য বছরে পাস করা শিক্ষার্থীরাও ম্যানুয়ালি আবেদন করতে পারবে। বিদেশি কোনো বোর্ড বা অনুরূপ কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা সনদের মান নির্ধারণের পর ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে।

বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা যেকোন (বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায়) গ্রুপে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। মানবিক গ্রুপ থেকে মানবিক ও ব্যবসায় আবেদন করা যাবে। ব্যবসায় বিভাগ থেকেও এই দুই গ্রুপের একটিতে আবেদন করতে পারবে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে পাস করার শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম কার্যকর হবে।

কোটা নির্বাচন
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে মোট শূন্য আসনের ৯৩ শতাংশ মেধা কোটা হিসেবে বিবেচিত হবে। এসব শূন্য আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বাকী ৫ শতাংশ বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য এবং ২ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দপ্তর/সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারী সন্তানদের জন্য রাখা হয়েছে। এসব আসনে শিক্ষার্থী না থাকলে তা মেধা কোটায় বিবেচিত হবে।

ভর্তি বাবদ ফি
একাদশের ভর্তির ক্ষেত্রে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেশন চার্জ ও ভর্তি বাবদ এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঢাকা মেট্রোপলিটনে বাংলা ভার্সনে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা, ইংরেজিতে ৫ হাজার টাকা, ঢাকার বাইরের মেট্রোপলিটন এলাকায় বাংলা ভার্সনে ৩ হাজার, ইংরেজিতে ৩ হাজার টাকা, জেলা শহরে বাংলায় ২ হাজার, ইংরেজিতে ২ হাজার টাকা এবং উপজেলা/মফস্বল পর্যায়ে বাংলায় ১ হাজার ৫০০ ও ইংরেজিতে ১ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উন্নয়ন ফি গ্রহণ করা যাবে না।

ননএমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঢাকা মেট্রোপলিটনে বাংলা ভার্সনে ৭ হাজার ৫০০, ইংরেজিতে ৮ হাজার ৫০০, ঢাকার বাইরে মেট্রোপলিটন এলাকায় বাংলায় ৫ হাজার ইংরেজিতে ৬ হাজার, জেলা শহরে ৩০০০-৬০০০ টাকা এবং উপজেলা/মফস্বলে ২৫০০-৩০০০ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। সব ফি আদায়ের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে রশিদ দিতে হবে। দরিদ্র, মেধাবী ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে উল্লেখিত সব ফি যতদূর সম্ভব মওকুফ করতে বলা হয়েছে। সব ফি’র বিবরণ স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বোর্ডে ঝুলিয়ে দিতে হবে। কোনোভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা যাবে না।

তিন ধাপে আবেদন
ভর্তির জন্য প্রথম ধাপের অনলাইন আবেদন শুরু হবে ৮ ডিসেম্বর থেকে। এটি ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। যারা পুন:নিরীক্ষণের জন্য আবদেন করেছে তাদেরও এ সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে। প্রথম ধাপের আবেদন ১৮ থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন যাচাই-বাছাই ও আপত্তি নিষ্পত্তি করা হবে। পুন:নিরীক্ষণে ফলাফল কারও পরিবর্তন হলে সে আগের আবেদন বাতিল করে ২৬ ডিসেম্বর পুনারায় অনলাইন আবেদন করতে পারবে। একই দিনে প্রথম ধাপের আবেদনকারীরা পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগ পাবে। ৩১ ডিসেম্বর (রাত ৮টায়) এ ধাপের মেধা তালিকা বা ফলাফল প্রকাশ করা হবে। ১ জানুয়ারি থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত নিশ্চয়ন করা যাবে। যারা নিশ্চয়ন করবে না তাদের আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।

দ্বিতীয় ধাপের আবেদন ৯ থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। এ ধাপের ফলাফল ১২ জানুয়ারি (রাত ৮টায়) প্রকাশ করা হবে। নিশ্চয়ন চলবে ১৩ থেকে ১৪ জানুয়ারি। তৃতীয় ধাপের এবদন ১৬ জানুয়ারি ও ফলাফল প্রকাশ ১৮ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ধাপের নিশ্চয়ন ১৯ থেকে ২০ জানয়াারি পর্যন্ত। যারা ভর্তির জন্য নির্বাচন হবে তাদের ২২ থেকে ২৬ জানুয়ারির মধ্যে ভর্তি হতে হবে। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ক্লাস শুরু হবে।

জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার ঢাকা পোস্টকে বলেন, একাদশ শ্রেণির ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ করা হয়েছে। তিন ধাপে অনলাইন আবেদন গ্রহণ ও মেধা তালিকা প্রকাশ করা হবে। তিন ধাপেও যদি কেউ ভর্তি থেকে বঞ্চিত থাকে তবে আরও একটি ধাপ বাড়ানো হবে। সারাদেশে পর্যাপ্ত শূন্য আসন আছে, তাই কেউ ভর্তি থেকে বঞ্চিত হবেন না বলে জানান তিনি।

জানা যায়, সারা দেশে ৯ হাজার ১৮১টি কলেজ ও মাদরাসায় একাদশ শ্রেণিতে পাঠদান করানো হয়। এছাড়াও সরকারি-বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট আছে ৫৬৫টি। ডিপ্লোমা ইন কমার্স প্রতিষ্ঠান সাতটি এবং কারিগরি বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (ভোকেশনাল, ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তি) পর্যায়ে প্রতিষ্ঠান আছে প্রায় ১৮শ। কলেজ ও মাদরাসায় আসন আছে ২৪ লাখ ৪০ হাজার ২৪৯টি, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি পলিটেকনিকে আছে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার। এছাড়া কারিগরি বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পর্যায়ে প্রায় ৯ লাখ আসন রয়েছে। ফলে দেখা যাচ্ছে এ বছর পাস করা সব শিক্ষার্থী ভর্তির পরও আসন শূন্য থাকবে প্রায় ১৬ লাখ।

বিভিন্ন শিক্ষাবোর্ড থেকে জানা যায়, দেশে সাড়ে ১১ হাজার প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে পড়ালেখা হলেও আড়াইশ কলেজে ভর্তির আগ্রহ থাকে শিক্ষার্থীদের। এর মধ্যে প্রায় ২শ কলেজ ও মাদরাসা এবং ৪৭টি সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, একটি গ্রাফিক্স আর্ট ইনস্টিটিউট ও একটি গ্লাস অ্যান্ড সিরামিকস ইনস্টিটিউট রয়েছে।

এছাড়া ৫১৫টি বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থাকলেও হাতে গোনা ডজনখানেক প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থী আকৃষ্ট করার ক্ষমতা রাখে। ডিপ্লোমা ইন কমার্সের সাত প্রতিষ্ঠান ও বিএমটি এবং ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠানেও কিছু শিক্ষার্থী ভর্তি হয়।

এমএম/এসএম

Link copied