নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতায় শিক্ষার ব্যবহার জরুরি : শিক্ষা উপদেষ্টা

শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেছেন, মানসম্মত, বিজ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। কারণ, শিক্ষা কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের জন্য নয় বরং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, নৈতিক মূল্যবোধ রক্ষা এবং সমাজের কল্যাণে তা ব্যবহৃত হওয়া উচিত।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাজধানীর ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির ২৬তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, সমাবর্তন একদিকে যেমন আনন্দ ও উদযাপনের মুহূর্ত, তেমনি এটি আত্মপর্যালোচনার সময়ও। শিক্ষাজীবনের একটি অধ্যায় শেষ হলেও এখান থেকেই বৃহত্তর সামাজিক ও নাগরিক দায়িত্ব গ্রহণের পথ শুরু হয়। উচ্চশিক্ষা যেমন সুযোগ সৃষ্টি করে, তেমনি সততা, নৈতিকতা ও সামাজিক সচেতনতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের বাধ্যবাধকতাও তৈরি করে।
জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, সংস্কারের দাবিতে একটি অরাজনৈতিক ছাত্র আন্দোলন হিসেবে শুরু হওয়া এই গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বিশেষ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাহসিকতার প্রশংসা করতে হয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে তারা নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন। এটি দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
শিক্ষা উপদেষ্টা আরও বলেন, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জলবায়ু অভিযোজনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রমবর্ধমান উচ্চ ব্যয় অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীর জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে বৃত্তি ও আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানাই।
সমাবর্তনে তিনি রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের পক্ষে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি প্রদান করেন। এ সময় খ্যাতিমান আলোকচিত্রী, লেখক, কিউরেটর ও মানবাধিকার কর্মী ড. শহীদুল আলম সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
আরএইচটি/এমজে