বিজ্ঞাপন

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ধীরগতি, আন্দোলনে নামছেন সুপারিশপ্রাপ্তরা

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ধীরগতি, আন্দোলনে নামছেন সুপারিশপ্রাপ্তরা

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পরও সুপারিশপ্রাপ্তদের যোগদান ও পদায়ন প্রক্রিয়ায় ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন প্রায় ১৫ হাজার প্রার্থী। এ অবস্থায় দ্রুত যোগদানের দাবিতে পূর্বঘোষিত আল্টিমেটাম প্রত্যাহার করে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছেন সুপারিশপ্রাপ্তরা। আগামী ২৬ এপ্রিল রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালনের কথা জানিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দিয়েছে প্রাথমিক সহকারী নিয়োগ ২০২৫-এ চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা।

সুপারিশপ্রাপ্তদের অভিযোগ, চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং বিষয়টি নিয়ে একধরনের অনিশ্চয়তা ও প্রহসনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে তারা আরও মানসিকভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

তারা বলছেন, রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের পুনঃতদন্ত শেষে গত ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়। এরপর সুপারিশপ্রাপ্তরা প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দেন এবং মেডিকেল পরীক্ষাও সম্পন্ন করেন। অনেকেই যোগদানের আশায় পূর্বের চাকরি থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন।

এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ সারা দেশের সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে সংবাদ সম্মেলন করে যোগদানে বিলম্বের বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন।

এদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এক বক্তব্যে বলেন, বিগত সরকার নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করে গেছেন। তবে সম্প্রতি ২২ এপ্রিল বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ‘দোদুল্যমান’ অবস্থান পরিলক্ষিত হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সুপারিশপ্রাপ্তরা।

এই পরিস্থিতিতে পূর্বঘোষিত ১০ দিনের আল্টিমেটাম প্রত্যাহার করে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তারা। আগামী ২৬ এপ্রিল, বেলা ১১টা থেকে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে সুশৃঙ্খলভাবে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা জানান, এই কর্মসূচিতে তাদের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেবেন এবং ন্যায্য অধিকার আদায়ে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

আরএইচটি/এসএম