নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মাথায় বরফজমা পানির বোতল ছুড়ে মারার অভিযোগে এক সহকারী শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ঘটনার তদন্তে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ। আহত শিক্ষার্থী বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
আর অভিযোগের সত্যতা পেলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. তানভীর মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার। একইসাথে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে।
জানা গেছে, আহত শিক্ষার্থীর নাম মুগ্ধ তালুকদার (১১)। সে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার বরান্তর গ্রামের হানিফ তালুকদারের ছেলে। বাবা-মা জীবিকার তাগিদে ঢাকায় থাকায় মুগ্ধ গ্রামে নানার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করছিল। সে পাশের খালিয়াজুরী উপজেলার রাজিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (১১ মে) দুপুরে বিদ্যালয়ে সহপাঠীদের সঙ্গে দুষ্টুমি করছিল মুগ্ধ। এ সময় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কাউসার আহমেদ ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে মারধর করেন। অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে ফ্রিজে রাখা বরফ জমাট বাধা পানির বোতল দিয়ে শিশুটির মাথায় আঘাত করা হয়। এতে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে সহপাঠী ও উপস্থিত লোকজন তার মাথায় পানি ঢেলে জ্ঞান ফেরান।
স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনাটি কাউকে জানালে আরও মারধর করা হবে এবং পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়া হবে বলে ভয় দেখিয়ে শিক্ষক তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। বাড়ি ফেরার পর রাতে এবং পরদিন কয়েক দফা মুগ্ধ জ্ঞান হারায় ও বমি করে। একপর্যায়ে তার কান দিয়ে রক্ত বের হতে শুরু করলে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
মুগ্ধের মামা মারুফ খান বলেন, মঙ্গলবার সকালে তাকে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসক সিটি স্ক্যানসহ উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে আর্থিক সংকটের কারণে বুধবার সকাল পৌনে ১০টা পর্যন্ত তাকে সেখানে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মাওলা বলেন, বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।
আরএইচটি/এমএসএ
