বিজ্ঞাপন

ঈদের আগে হচ্ছে না প্রাথমিকের বৃত্তির ফল, জানা গেল নতুন সময়

ঈদের আগে হচ্ছে না প্রাথমিকের বৃত্তির ফল, জানা গেল নতুন সময়

আইনি জটিলতার কারণে কয়েক দফায় পিছিয়ে শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়া পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশে আরও দেরি হচ্ছে। মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ফল প্রকাশের কথা থাকলেও খাতা মূল্যায়নসহ নানা জটিলতায় তা সম্ভব হয়নি।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) জানিয়েছে, ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটির আগে এই ফল প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। আগামী জুনের প্রথম সপ্তাহের শেষ দিকে ফল প্রকাশের নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ের প্রায় চার মাস পর গত ১৫ এপ্রিল বাংলা বিষয়ের মধ্য দিয়ে এই বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হয় এবং ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান পরীক্ষার মাধ্যমে শেষ হয়। এবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে মোট ৬ লাখ ৪০ হাজারের কিছু বেশি শিক্ষার্থী। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাড়ে পাঁচ লাখ এবং বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (কিন্ডারগার্টেন) ৯০ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ফল না পাওয়ায় সাড়ে ছয় লাখ শিক্ষার্থীর অপেক্ষার প্রহর আরও দীর্ঘ হচ্ছে।

এর আগে ২১ মে ফল প্রকাশের একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে সার্বিক কাজ শেষ না হওয়ায় সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হয়েছে কর্তৃপক্ষকে। জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগের উপ-পরিচালক (সংস্থাপন) এ এস এম সিরাজুদ্দোহা বলেন, ‘ফল প্রকাশের একটি লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছিল। তবে খাতা মূল্যায়নসহ অনেক কাজ বাকি থাকায় মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বা ঈদের আগে ফল প্রকাশ সম্ভব হচ্ছে না। আশা করছি, ঈদের ছুটি শেষে জুনের প্রথম সপ্তাহের শেষ দিকে ফল প্রকাশ করতে পারব।’

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার মেধা ও জেলা-উপজেলাভিত্তিক কোটায় মোট ৮২ হাজার ৫০০ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হবে। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬৬ হাজার এবং বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৬ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী বৃত্তি পাবে। অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীর অনুপাত অনুযায়ী, সরকারি বিদ্যালয়ের প্রতি ৮ জনে একজন এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের প্রতি সাড়ে ৫ জনে একজন শিক্ষার্থী বৃত্তি পাবে।

শিক্ষার্থীদের দুই ক্যাটাগরিতে এই বৃত্তি দেওয়া হবে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে (মেধাবৃত্তি) বৃত্তি পাবে ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী এবং সাধারণ কোটায় বৃত্তি পাবে ৪৯ হাজার ৫০০ জন। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্তরা মাসে ৩০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তরা মাসে ২২৫ টাকা করে পাবে।

এছাড়া উভয় ক্যাটাগরির শিক্ষার্থীরা বার্ষিক এককালীন ২২৫ টাকা করে আর্থিক সুবিধা পাবে। পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ণ হওয়ার পর পরবর্তী দুই বছর শিক্ষার্থীরা এই সুবিধা ভোগ করবে।

এদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বৃত্তির এই টাকার পরিমাণ দ্বিগুণ থেকে চার গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর একটি প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। এই প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে পরবর্তী অর্থাৎ ২০২৬ সালের বৃত্তি পরীক্ষার্থীরা বর্ধিত হারে বৃত্তির টাকা পাবে বলে জানা গেছে।

আরএইচটি/এসএএস