বিজ্ঞাপন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য

কলেজগুলোতে অনার্স কোর্সে গুণগত মান না থাকলে নেওয়া হবে ব্যবস্থা

কলেজগুলোতে অনার্স কোর্সে গুণগত মান না থাকলে নেওয়া হবে ব্যবস্থা

অনার্স কোর্স পরিচালনার প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ কলেজগুলোর বিরুদ্ধে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।

তিনি বলেন, সারা দেশের কলেজগুলোর তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়ন চলছে। পরিবেশ ও শিক্ষার মান উন্নত না হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর কার্যালয়ে ‘কারিকুলামে দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী শিক্ষা অন্তর্ভুক্তিকরণ বিষয়ে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম’ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, দেশে বিভিন্ন সময় নানা কারণে অনেক কলেজে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালু হয়েছে। তবে সব প্রতিষ্ঠানে সমান মানের শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে কলেজগুলোর র‌্যাংকিং ও মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

তিনি জানান, কলেজগুলোর বিষয়ে মাঠপর্যায়ের প্রায় ৯০ শতাংশ তথ্য ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতে এসেছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে কোন কলেজ অনার্স কোর্স পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষক, অবকাঠামো ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারছে এবং কোনগুলো পারছে না।

ড. আমানুল্লাহ বলেন, গত দুই বছর ধরে বিভিন্ন কলেজকে শিক্ষকসংখ্যা বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু কিছু প্রতিষ্ঠান এখনও প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ঘটাতে পারেনি। সেসব কলেজকে আরও সময় দেওয়া হবে। এরপরও পরিস্থিতির উন্নতি না হলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে কোনো কোনো বিষয়ে ১৫ জন শিক্ষক রয়েছেন, কিন্তু শিক্ষার্থী মাত্র তিনজন। এ ধরনের পরিস্থিতি রাষ্ট্রের সম্পদের কার্যকর ব্যবহার এবং সুশাসনের প্রশ্নে উদ্বেগের বিষয়। করদাতাদের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাও বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এ প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীপ্রতি সরকারি ব্যয়ের হিসাব নিয়ে একটি বিভ্রান্তি রয়েছে। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের সরাসরি বরাদ্দ বিবেচনা করলে ব্যয় কম মনে হলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতনসহ সামগ্রিক সরকারি ব্যয় হিসাব করলে শিক্ষার্থীপ্রতি ব্যয়ের পরিমাণ অনেক বেশি।

এ ছাড়া তিনি জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সব অনার্স ও মাস্টার্স প্রোগ্রামে ধাপে ধাপে কর্মমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। বাংলা, ইংরেজি বা ইতিহাস– বিষয়ভেদে নয়, প্রায় সব বিভাগের শিক্ষার্থীকেই কর্মসংস্থানমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে।

ড. আমানুল্লাহ বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে ৬০ শতাংশ উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ইনকোর্স পরীক্ষার জবাবপত্র যাচাই ও তদারকিও জোরদার করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার মান, জবাবদিহি ও অ্যাকাডেমিক শৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা চলছে।

এ সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. নূরুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরএইচটি/বিআরইউ