অনলাইনে আবেদনের সুযোগ থাকার পরও বদলি ও অন্যান্য কাজের তদবির করতে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সশরীরে উপস্থিত হওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। এতে একদিকে যেমন অধিদপ্তরের স্বাভাবিক দাপ্তরিক কাজে বিঘ্ন ঘটছে, অন্যদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠদান কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দাপ্তরিক বা ব্যক্তিগত বদলির তদবিরের জন্য অধিদপ্তরে আসা নিরুৎসাহিত করে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর।
সম্প্রতি কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) প্রকৌশলী মো. জয়নাল আবেদীনের সই করা এক অফিস আদেশে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। দেশের সব টেকনিক্যাল টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, সরকারি পলিটেকনিক ও মনোটেকনিক ইনস্টিটিউট, ভোকেশনাল টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (ভিটিটিআই) এবং সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষদের কাছে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বদলি বা অন্যান্য সেবা পাওয়ার তদবিরের জন্য নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই সশরীরে অধিদপ্তরে চলে আসছেন। তাদের এই আকস্মিক আগমনের কারণে অধিদপ্তরের বিভিন্ন শাখাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাজের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
একইসঙ্গে মাঠপর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এমনিতেই শিক্ষক ও জনবল ঘাটতি রয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষকরা তদবিরের উদ্দেশ্যে কর্মস্থল ত্যাগ করায় শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান ও একাডেমিক কর্মসূচি চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রমেও স্থবিরতা নেমে আসছে।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, বর্তমানে বদলির পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে সম্পন্ন করার সুযোগ রয়েছে। অনলাইনে প্রাপ্ত আবেদনগুলো অধিদপ্তর সবসময় সর্বোচ্চ সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে।
এছাড়া বদলি ব্যতীত অন্যান্য সেবার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের মাধ্যমে প্রেরিত সব বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তি করা হয়। ফলে সেবাগ্রহীতাদের সরাসরি অধিদপ্তরে যোগাযোগ করার কোনো প্রয়োজন নেই।
এসব পরিস্থিতি বিবেচনায়, এখন থেকে বদলি বা অন্যান্য অভ্যন্তরীণ সেবার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা যাতে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করতে না পারেন, সে বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে এবং তাদের ছুটি মঞ্জুরের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর।
আরএইচটি/জেডএস
