বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন বলেছেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে শিক্ষার উন্নয়ন, মানবসম্পদের মানোন্নয়ন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জনের ওপর। এ লক্ষ্য সামনে রেখে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
বুধবার (১৭ জুন) পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুইদিনব্যাপী বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতে ৫৬ শতাংশ বাজেট বাড়িয়েছে। সরকার শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শিক্ষার উপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার পাশাপাশি আয়ের উৎস তৈরি করার জন্য স্মার্ট সিটি গড়ে তুলছে। সৃজনশীল অর্থনীতিতে এই প্রথম বাজেটে টাকা রাখা হয়েছে। উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে সরকারের সফলতা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
ড. মামুন আরও বলেন, এই ধরনের সম্মেলনের মধ্য দিয়ে সারা বিশ্বের গবেষকদের সঙ্গে আমাদের শিক্ষার্থী-গবেষকদের সেতুবন্ধন রচিত হবে। শিক্ষার্থীরা নতুন নতুন গবেষণায় উদ্বুদ্ধ হবেন। শিক্ষার টেকসই উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সম্মেলনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম বলেন, জ্ঞান সৃষ্টির প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব শুধু ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শিক্ষিত করাই নয় সামাজিক প্রতিবন্ধকতারও সমাধান করা। মানবজাতি অভূতপূর্ব রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই রূপান্তরে বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করতে হবে। আমাদের মতো নবীন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের জন্য প্রযুক্তির এই রূপান্তরে কাজ করার বড় সুযোগ হয়েছে। এই সুযোগ কাজ লাগাতে হবে। সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।
অনুষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন- উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান, বুয়েটের অধ্যাপক ড. শেখ আনোয়ারুল ফাত্তাহ, অধ্যাপক ড. সিলিয়া শাহনাজ, অধ্যাপক ড. মো. ইমামুল হাসান ভুইয়া ও সম্মেলন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসেন।
সম্মেলনের প্রথমদিনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাপানের আইজু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জুংপিল শিন। প্রথম দিনে শতাধিক গবেষক ১৮০টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। দুই দিনে মোট ৩৯ সেশনে ৩০৮টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হবে।
আরএইচটি/বিআরইউ
