চলতি মাসের শেষ দিকে প্রকাশ করা হতে পারে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল। এ লক্ষ্যে ফল প্রকাশের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আইপিইএমআইএস লাইভ সার্ভারে ফল দেখার লিংকও উন্মুক্ত করা হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সিস্টেম অ্যানালিস্ট দিলীপ কুমার সরকার।
তিনি জানান, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রস্তুতের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। বর্তমানে সামান্য যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে ফল প্রশাসন বিভাগে পাঠানো হবে। এরপর প্রশাসন বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশের তারিখ নির্ধারণ করবে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মাসের মধ্যেই ফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২০০৯ সালে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা বন্ধ করে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা চালু করা হয়। পরে ওই পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়া হতো। তবে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ২০২০ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে এ পাবলিক পরীক্ষাও বাতিল করা হয়।
দীর্ঘ ১৩ বছর পর ২০২২ সালের ডিসেম্বরে পরীক্ষামূলকভাবে আবার প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়। ওই পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৮২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে বৃত্তির জন্য নির্বাচিত করা হয়।
গণঅভ্যুত্থানের পর গত বছর থেকে পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা পুনরায় চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। সে অনুযায়ী বছরের শেষ দিকে পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও মামলা-সংক্রান্ত জটিলতায় তা সম্ভব হয়নি। পরে চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হয়ে ১৮ এপ্রিল শেষ হয়।
নীতিমালা অনুযায়ী, ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ—এই দুই ক্যাটাগরিতে বৃত্তি প্রদান করা হবে। মেধা তালিকায় ছাত্র ও ছাত্রীদের সমান হারে, অর্থাৎ ৫০ শতাংশ করে নির্বাচন করা হবে। এছাড়া মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং অবশিষ্ট ২০ শতাংশ বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
আরএইচটি/এমএসএ
