আসন্ন আলিম পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস রোধ এবং নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে আসন বিন্যাসে বড় পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এবার ‘জেড’ প্যাটার্ন বা ইংরেজি জেড অক্ষরের আকৃতি অনুসরণ করে পরীক্ষার্থীদের বসার ব্যবস্থা করতে হবে। একইসঙ্গে বহুনির্বাচনী পরীক্ষার ক্ষেত্রে পাশাপাশি বসা, পরীক্ষার্থীরা যাতে কোনোভাবেই একই সেটের প্রশ্নপত্র না পায়, সে বিষয়ে হল পরিদর্শকদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে বলা হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. ফারুক আহম্মেদের সই করা এক জরুরি নির্দেশনাবলীতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
এতে বলা হয়, এবারের আলিম পরীক্ষা জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্তৃক পুনর্বিন্যাস করা সিলেবাস অনুযায়ী পূর্ণ নম্বর ও পূর্ণ সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা শুরু হওয়ার ন্যূনতম সাতদিন আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বা তার প্রতিনিধি এবং ট্রেজারির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতে প্রশ্নপত্রের প্যাকেট সর্টিং (বিন্যাস) করবেন। এ সময় ‘মেঘনা’ ও ‘যমুনা’ সেটের প্রশ্ন আলাদা ট্রাংকে রাখতে হবে এবং বহুনির্বাচনী প্রশ্ন অবশ্যই ‘মেঘনা’ সেটের ট্রাংকে সংরক্ষণ করতে হবে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, পরীক্ষার দিন জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে এসএমএসের মাধ্যমে নির্ধারিত সেট (মেঘনা বা যমুনা) জেনে পরীক্ষা নিতে হবে। বহুনির্বাচনী ও সৃজনশীল পরীক্ষার মাঝে কোনো বিরতি থাকবে না এবং উভয় পরীক্ষা বিরতিহীনভাবে মোট ৩ ঘণ্টা চলবে। কক্ষে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা যত কমই হোক না কেন, প্রতিটি কক্ষে ন্যূনতম ২ জন কক্ষ প্রত্যবেক্ষক (গার্ড) থাকতে হবে এবং ছাত্রী পরীক্ষার্থী থাকলে অবশ্যই ১ জন মহিলা শিক্ষক নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়া, আরবি বিষয়ের দিন সাধারণ বিষয়ের শিক্ষক এবং সাধারণ বিষয়ের পরীক্ষার দিন আরবি বিষয়ের শিক্ষকদের কক্ষপ্রত্যবেক্ষকের দায়িত্ব দিতে বলা হয়েছে।
মাদ্রাসা বোর্ডের পরীক্ষা নীতিমালায় পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। কেন্দ্রে শুধুমাত্র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একটি নন-অ্যান্ড্রয়েড (বাটন) মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন। কক্ষপ্রত্যবেক্ষক বা পরীক্ষার্থীর কাছে মোবাইল ফোন পাওয়া গেলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সোপর্দ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের সময় ছাত্র-ছাত্রীদের দেহ তল্লাশি করে প্রবেশ করাতে হবে।
বোর্ডের নির্দেশনায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধার কথা বলা হয়েছে। শারীরিক প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীরা বোর্ডের অনুমতি নিয়ে ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে শ্রুতিলেখক হিসেবে নিতে পারবে এবং অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় পাবে। অটিস্টিক, ডাউন সিনড্রোম বা সেরিব্রালপলসি আক্রান্ত পরীক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় পাবে এবং তাদের উত্তরপত্রগুলো বেগুনি রঙের কাপড়ে আলাদা প্যাকেট করে বোর্ডে পাঠাতে হবে।
এছাড়া, প্রতিদিনের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পূর্বেই বেলা ১২টা ৩০ মিনিটের মধ্যে উপস্থিতি, অনুপস্থিতি ও বহিষ্কারের তথ্য অনলাইনে বোর্ডে পাঠাতে হবে। নির্দেশনার কোনো ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দায়ী থাকবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়েছে।
আরএইচটি/জেআই/জেডএস
