বিজ্ঞাপন

তদারকি জোরদারের উদ্যোগ

কারিগরি দপ্তরেই শুরু হচ্ছে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যক্রম

কারিগরি দপ্তরেই শুরু হচ্ছে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যক্রম

মাঠপর্যায়ে নিজস্ব প্রশাসনিক অবকাঠামো ও আঞ্চলিক অফিস না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম পরিচালনায় সংকটে রয়েছে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। এর প্রভাব পড়ছে সারাদেশে মাদরাসা শিক্ষার তদারকি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন, তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা এবং সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মনিটরিংয়ে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আপাতত কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে আটটি বিভাগীয় আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রতিটিতে ন্যূনতম তিনটি করে কক্ষ সাময়িকভাবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যক্রম দ্রুত চালু করতে, গত ২৪ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়ার সভাপতিত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আটটি আঞ্চলিক কার্যালয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অনুকূলে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কক্ষ সাময়িকভাবে বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় গত ১৬ জুন মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. উবায়দুল হক কক্ষ বরাদ্দের আনুষ্ঠানিক অনুমতি চেয়ে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে চিঠি পাঠান।

এদিকে, গত ২৩ জুন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখার পরিচালক প্রকৌশলী মো. জয়নাল আবেদীন দেশের আটটি অঞ্চলের— ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর ও বরিশালের আঞ্চলিক পরিচালকদের কাছে জরুরি ভিত্তিতে ভৌত অবকাঠামো–সংক্রান্ত তথ্য ও মতামত চেয়ে চিঠি দিয়েছেন।

নথিপত্র পর্যালোচনায় জানা গেছে, সরকার ইতোমধ্যে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় বিভাগীয় পর্যায়ে আটটি আঞ্চলিক অফিস স্থাপনের জন্য অস্থায়ীভাবে ৩৩টি পদ এবং প্রধান কার্যালয়সহ মোট ৪২টি পদ রাজস্ব খাতে সৃজনের অনুমোদন দিয়েছে।

অনুমোদিত পদের মধ্যে রয়েছে সহকারী পরিচালক আটটি, পরিদর্শক আটটি, অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক আটটি, হিসাব সহকারী আটটি এবং অফিস সহায়ক আটটি পদ। তবে সম্পূর্ণ নতুন বিভাগীয় কার্যালয় স্থাপন সময়সাপেক্ষ হওয়ায়, বিদ্যমান জনবলকে দ্রুত কাজে লাগানো এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম সচল করতেই এই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, আঞ্চলিক কাঠামো না থাকায় এতদিন মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার তদারকি কার্যক্রম কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছিল না। নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বিভাগীয় পর্যায়ে সরাসরি প্রশাসনিক উপস্থিতি তৈরি হলে তদারকি ও মনিটরিং কার্যক্রম আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা খাতের দপ্তরগুলোতে বর্তমানে বড় ধরনের জনবল সংকট রয়েছে। মোট ২৭ হাজার ছয়শ ৫৩টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১২ হাজার আটশ ২৭ জন। ফলে ১৪ হাজার আটশ ২৬টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শূন্যপদ রয়েছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে— ১৪ হাজার চারশ ২৮টি। এই বাস্তবতায় মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম সচল রাখতে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের কক্ষ ভাগাভাগির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরএইচটি/জেআই/এমএন