জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮তম সিনেট অধিবেশনে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য ৮০১ কোটি ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকার মূল বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়কে যুগোপযোগী, দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী শিক্ষায় রূপান্তরের বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।
অধিবেশনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ কর্মসূচি, ভাষা শিক্ষা, সিলেবাস সংস্কার এবং আগামী পাঁচ বছরে ২ কোটি গাছ রোপণের মতো উদ্যোগের কথাও জানানো হয়।
শনিবার (২৭ জুন) গাজীপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে অনুষ্ঠিত এ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সিনেট চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে যুগোপযোগী ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ ১৫০টির বেশি দেশি–বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা সংস্থা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের অ্যাপ্রেন্টিসশিপ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে ৫০ হাজার শিক্ষানবিশ তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক সক্ষমতা বাড়াতে তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। মাল্টি ল্যাংগুয়েজ লার্নিং ইনস্টিটিউটের (এমএলএলআই) মাধ্যমে মান্দারিন, জাপানি, কোরিয়ান, আরবি, ইতালিয়ান, স্প্যানিশ ও ফরাসি ভাষা শেখানো হচ্ছে। একই সঙ্গে দক্ষতাভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আধুনিকীকরণ এবং সিলেবাস সংস্কার কার্যক্রমও হাতে নেওয়া হয়েছে।
সবুজায়ন ও পরিবেশবান্ধব শিক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গ্রিন ক্যাম্পাস গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থীকে সম্পৃক্ত করে আগামী পাঁচ বছরে ২ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্নাতক পর্যায়ে ইংরেজি ও আইসিটি কোর্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নৈতিক ও মানবিক শিক্ষা সম্প্রসারণে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির আওতায় দেশব্যাপী খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।
এসময় ২০২৬–২৭ অর্থবছরের মূল বাজেট এবং ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. এ টি এম জাফরুল আযম। অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের ৮০১ কোটি ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকার মূল বাজেট অনুমোদন করা হয়। একই সঙ্গে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের ৬৬৪ কোটি ৮ লাখ ৪১ হাজার টাকার সংশোধিত বাজেটও অনুমোদিত হয়।
উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৬১৭ কোটি ১৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। ফলে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ১৮৩ কোটি ৯০ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। অন্যদিকে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে রাজস্ব আয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৬২৫ কোটি ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা এবং ঘাটতি ধরা হয়েছে ৩৯ কোটি ৫ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।
অধিবেশনে সিনেট সদস্যরা চেয়ারম্যানের বক্তব্যের ওপর আলোচনা করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। অধিবেশনের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব উত্থাপন ও সর্বসম্মতভাবে অনুমোদন করা হয়। তাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিনেট সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংসদ সদস্য ইমরান আহমেদ চৌধুরী, ওয়ারেস আলী মামুন, আবুল হোসেন খান ও জি এম সিরাজ। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ এবং অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।
এ ছাড়া অনলাইনে যুক্ত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং বিভাগীয় কমিশনাররা।
অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য প্রফেসর মো. লুৎফর রহমান ও প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফসহ ৭০ জন সিনেট সদস্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ডিন, রেজিস্ট্রার ও বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরাও উপস্থিত ছিলেন।
আরএইচটি/এসএইচএ
