দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়ায় দেশের ৬২১টি এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পর্যায়ের কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমোদন বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ড। এ লক্ষ্যে গত ২৫ জুন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কাছে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে আগামী ২২ জুলাইয়ের মধ্যে কেন এসব প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমোদন বাতিল বা প্রত্যাহার করা হবে না, সে বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠান কার্যত শিক্ষার্থীশূন্য হয়ে পড়েছে। অথচ শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়মিত পরিশোধ করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত, পাঠদানের অনুমোদন বাতিল এবং শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান বন্ধের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
নোটিশে বলা হয়েছে, ‘বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, পাঠদান ও স্বীকৃতি প্রদান সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৪’-এর উপবিধি ৪.২, ৪.৪ ও ৫.৪ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থী ভর্তি, পরীক্ষার ফলাফল, অবকাঠামো, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, ব্যবস্থাপনা কমিটি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, গ্রন্থাগার এবং পাঠদানের অনুমতিকালে আরোপিত অন্যান্য শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে সরকারের অনুমোদনক্রমে বোর্ড সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি বাতিল বা প্রত্যাহার করতে পারবে।
কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, শোকজ করা হয়েছে ৪৪৩টি এসএসসি (ভোকেশনাল) এবং ১৭৮টি দাখিল (ভোকেশনাল) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছেন বোর্ডের কর্মকর্তারা।
আরএইচটি/এমএন
