বিজ্ঞাপন

ফল প্রস্তুত শেষ হয়নি, জুনে মিলছে না প্রাথমিক বৃত্তির ফল

ফল প্রস্তুত শেষ হয়নি, জুনে মিলছে না প্রাথমিক বৃত্তির ফল

২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশে আরও অপেক্ষা করতে হবে শিক্ষার্থীদের। ফল প্রস্তুতের কাজ এখনো শেষ না হওয়ায় চলতি জুন মাসে ফল প্রকাশের আর কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। বর্তমানে অধিদপ্তরের তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ (আইএমডি) ফল প্রস্তুতের কাজ করছে। আগামী জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে এ কাজ শেষ হলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফল প্রকাশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের শিক্ষা কর্মকর্তা (সাধারণ প্রশাসন) মো. আব্দুর রেজ্জাক সিদ্দিকী ঢাকা পোস্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রস্তুতের কাজ বর্তমানে তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে (আইএমডি) চলমান রয়েছে। সেখান থেকে চূড়ান্ত তথ্য পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কমিটির সভা, অনুমোদনসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফল প্রকাশ করা হবে। এ মুহূর্তে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানানো সম্ভব নয়। তবে চলতি মাসে ফল প্রকাশের সম্ভাবনা নেই। আইএমডি থেকে ফল প্রস্তুত করে পাঠানোর পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে ফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। 

অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আইনি জটিলতার কারণে কয়েক দফা পিছিয়ে নির্ধারিত সময়ের প্রায় চার মাস পর গত ১৫ এপ্রিল বাংলা বিষয়ের পরীক্ষার মাধ্যমে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হয়। ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে এবারের পরীক্ষা শেষ হয়।

এবারের পরীক্ষায় ৬ লাখ ৪০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ এবং বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (কিন্ডারগার্টেন) প্রায় ৯০ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে।

এবার মেধা ও জেলা-উপজেলাভিত্তিক কোটায় মোট ৮২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী বৃত্তি পাবে। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬৬ হাজার এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের ১৬ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী বৃত্তির আওতায় আসবে।

দুই ক্যাটাগরিতে বৃত্তি দেওয়া হবে শিক্ষার্থীদের। ট্যালেন্টপুল (মেধাবৃত্তি) ক্যাটাগরিতে ৩৩ হাজার এবং সাধারণ কোটায় ৪৯ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী বৃত্তি পাবে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ট্যালেন্টপুলে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা মাসে ৩০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তরা মাসে ২২৫ টাকা করে পাবে। এ ছাড়া উভয় শ্রেণির শিক্ষার্থী বছরে এককালীন ২২৫ টাকা করে আর্থিক সুবিধা পাবে। পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ণ হওয়ার পরবর্তী দুই বছর তারা এ সুবিধা ভোগ করবে।

এর আগে চার দফায় সম্ভাব্য সময় জানিয়েও ফল প্রকাশ করতে পারেনি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। প্রথমে মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ফল প্রকাশের কথা বলা হয়েছিল। পরে ঈদের আগে, ঈদের পরে এবং সর্বশেষ জুন মাসের মধ্যে ফল প্রকাশের আশ্বাস দেওয়া হলেও কোনো সময়েই তা সম্ভব হয়নি।

অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এখন জুলাই মাসের ফল প্রকাশের সম্ভাবনার কথা বলছেন।

বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগের উপপরিচালক (সংস্থাপন) এ এস এম সিরাজুদ্দোহা বলেন, বৃত্তি পরীক্ষার ফল এ মাসেও প্রকাশ করা যাচ্ছে না। কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। তাই আরও কিছু সময় লাগবে।

কবে নাগাদ ফল প্রকাশ হতে পারে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হয়তো জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহে চলে যাবে। তার আগে আর হওয়ার সুযোগ দেখছি না। সে ক্ষেত্রে আরও প্রায় ১৫ দিনের মতো সময় লাগবে।

ফল প্রকাশে বিলম্বের কারণ সম্পর্কে এ এস এম সিরাজুদ্দোহা বলেন, আমাদের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ছিল। প্রাথমিক শিক্ষা পদক, প্রাথমিক গোল্ডকাপ ফুটবলসহ বিভিন্ন আয়োজন নিয়ে শিক্ষক ও কর্মকর্তারা ব্যস্ত ছিলেন। ফলে ফলাফল প্রস্তুতের কাজে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া সম্ভব হয়নি। এ কারণেই এবার ফল প্রকাশে কিছুটা দেরি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ১৫ এপ্রিল বাংলা বিষয়ের পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হয়। ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষার মাধ্যমে তা শেষ হয়। এ বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৬ লাখ ৪০ হাজারের কিছু বেশি। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাড়ে পাঁচ লাখ এবং বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (কিন্ডারগার্টেন) প্রায় ৯০ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

আরএইচটি/এমএসএ