নিয়োগে জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ, কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অনুপস্থিতি ও অন্যান্য অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসার এক অধ্যক্ষসহ চার শিক্ষক-কর্মচারীর চূড়ান্ত বরখাস্তের আবেদন অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আপিল ও সালিশ কমিটি।
একইসঙ্গে তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে চারটি মাদ্রাসার বিষয়ে নতুন করে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া একটি বরখাস্তের আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ এবং আরেকটি আবেদন শুনানিতে বাদীপক্ষ অনুপস্থিত থাকায় বাতিল করা হয়েছে।
গত ১৮ ও ১৯ মে অনুষ্ঠিত মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আপিল ও সালিশ কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সোমবার (২৯ জুন) বোর্ডের রেজিস্ট্রার প্রফেসর এস এম তৌহিদুজ্জামান এবং উপ-রেজিস্ট্রার (প্রশাসন) মো. আব্দুর রশিদের সই করা পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার চর সাগরদী আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আ. রহিমের বিরুদ্ধে নিয়োগ জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাৎের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার চূড়ান্ত বরখাস্তের আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে। একইভাবে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ফয়সালাবাদ মুস্তাফাবীয়া আলিম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক (শরীরচর্চা) মো. রেফাজ্জেল হোসেনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার বরখাস্তের আদেশ অনুমোদন করা হয়েছে।
এ ছাড়া মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বাবনিয়া হাসিমপুর নিজামিয়া আলিম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক (গণিত) মোহাম্মদ আজাদ খান অনুমোদন ছাড়া বিদেশে চলে যান এবং দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। মোবাইল ফোনে তার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে বিদেশে অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য অভিযোগও প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পাবনার সুজানগর উপজেলার আহাম্মাদপুর আহাম্মাদিয়া দাখিল মাদ্রাসার অফিস সহকারী মো. শামসুর রহমানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও প্রমাণিত হওয়ায় তার চূড়ান্ত বরখাস্তের আবেদন অনুমোদন করেছে কমিটি।
অন্যদিকে, চারটি মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া সঠিক না হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের বরখাস্তের অনুমোদন আপাতত স্থগিত রেখে নতুন করে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান হলো, নওগাঁর মান্দা উপজেলার চকবান বৈলশিং দাখিল মাদ্রাসা, পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়ন আলিম মাদ্রাসা, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার নবরত্নবাড়ী দাখিল মাদ্রাসা এবং গাজীপুর সদরের পূর্ব ধীরাশ্রম ডা. বাখর উদ্দিন ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা।
এসব প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হলেন, চকবান বৈলশিং দাখিল মাদ্রাসার অফিস সহকারী মো. আবুল কালাম, বালিপাড়া ইউনিয়ন আলিম মাদ্রাসার প্রভাষক (আইসিটি) মাসুদ করিম, নবরত্নবাড়ী দাখিল মাদ্রাসার নিরাপত্তা কর্মী মোর্শেদ আলম এবং পূর্ব ধীরাশ্রম ডা. বাখর উদ্দিন ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক (শরীরচর্চা) উম্মে কুলসুম নীলা।
নতুন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়গুলো পরবর্তী সভায় উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছে বোর্ড।
এদিকে বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নীলফামারী সদর উপজেলার দুহলী আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আব্দুল ওয়াজেদের বরখাস্তের আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়ায় খারিজ করা হয়েছে।
অপরদিকে, জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার পোড়ারচর এস. এম. এ দাখিল মাদ্রাসার সহকারী সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন সাইদীর বরখাস্তের আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন শুনানির দিন বাদীপক্ষ উপস্থিত না থাকায় সেটিও খারিজ করে দিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আপিল ও সালিশ কমিটি।
আরএইচটি/এমএসএ
