সারা দেশে একযোগে শুরু হচ্ছে এইচএসসি ও সমানের পরীক্ষা। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল দশটা থেকে প্রথম দিনের লিখিত পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। যানজট ও অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্বের আশঙ্কা এড়াতে এরইমধ্যে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই কেন্দ্রে আসতে শুরু করেছে পরীক্ষার্থীরা। আর নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে আটটা থেকেই পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারছে।
সকাল থেকে রাজধানীর উত্তরা রাজউক মডেল কলেজ প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, আবার কেউ একাই কেন্দ্রে এসেছেন। প্রবেশের আগে অনেককে অ্যাডমিট কার্ড, রেজিস্ট্রেশন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র মিলিয়ে নিতে দেখা যায়। কেন্দ্রে ঢোকার আগে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতেও ব্যস্ত ছিলেন অনেকে। কেউ বই, কেউ নোট দেখে পরীক্ষার আগে শেষবারের মতো পড়া ঝালিয়ে নিচ্ছিলেন।
পরীক্ষার্থীদের অনেকেই জানান, দেরি বা বাড়তি চাপ এড়াতেই তারা আগেভাগে কেন্দ্রে এসেছেন। পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত কেন্দ্রজুড়ে ছিল উদ্বেগ, প্রত্যাশা আর নতুন পথচলার অনুভূতি।
এদিকে পরীক্ষা শুরুর অনেক আগে থেকেই কেন্দ্রের সামনে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। তবে আগের বছরের তুলনায় এবার কেন্দ্রগুলোতে ছিল দৃশ্যমান কড়াকড়ি। প্রবেশমুখে তল্লাশি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান, সিসিটিভি নজরদারি এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনে কেন্দ্রে প্রবেশ—সব মিলিয়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেই শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা।
কেন্দ্র ঘুরে আরও দেখা যায়, মূল ফটক থেকে শুরু করে পরীক্ষা ভবনের বিভিন্ন অংশে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কেন্দ্রসচিবরা পরীক্ষার্থীদের প্রবেশ, আসন গ্রহণ ও পরীক্ষা পরিচালনায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছেন। কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রশ্নসংক্রান্ত গুজব ঠেকাতে কেন্দ্রভিত্তিক পর্যবেক্ষণও বাড়ানো হয়েছে।
অন্যদিকে, কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষা করতে দেখা যায় অসংখ্য অভিভাবককে। সন্তানদের পরীক্ষা নির্বিঘ্নে শেষ হওয়ার প্রত্যাশায় কেউ দোয়া করছেন, কেউ উদ্বেগ নিয়ে সময় গুনছেন।
এবার মোট ৭৭টি বিষয়ে ২১ দিনে পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে আগামী ৮ আগস্ট। এরপর ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা চলবে। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন বিভিন্ন কোর্সের তাত্ত্বিক পরীক্ষা জুলাই ও আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯ হাজার ৪৩৯টি এবং মোট পরীক্ষাকেন্দ্র ২ হাজার ৬৯৭টি। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন শিক্ষার্থী ১ হাজার ৬২৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪৬১টি কেন্দ্রে অংশ নেবে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১০টি কেন্দ্রে অংশ নেবে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থী।
আরএইচটি/জেডএস
