বিজ্ঞাপন

‘প্রথম পরীক্ষায় ছেলেটা একটু টেনশনে ছিল, তাই সঙ্গে এসেছি’

‘প্রথম পরীক্ষায় ছেলেটা একটু টেনশনে ছিল, তাই সঙ্গে এসেছি’

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রথম দিন আজ। সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের পাশাপাশি ছিলেন অভিভাবকেরাও। কেউ শেষ মুহূর্তে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র মিলিয়ে দিচ্ছেন, কেউ সাহস জোগাচ্ছেন, আবার কেউ সন্তানের মাথায় হাত রেখে দোয়া করছেন।

উত্তরার রাজউক মডেল কলেজ কেন্দ্রের সামনে এক অভিভাবক বললেন, ‘প্রথম পরীক্ষায় ছেলেটা একটু টেনশনে ছিল, তাই সঙ্গে এসেছি।’ শুধু তিনিই নন, প্রথম দিনের উদ্বেগ কাটিয়ে সন্তানদের মানসিকভাবে সাহস জোগাতে অনেক অভিভাবককেই পরীক্ষাকেন্দ্রে পাশে থাকতে দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, পরীক্ষা শুরুর আগেই শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রে প্রবেশ করছেন।

কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষা করছেন অসংখ্য অভিভাবক। সন্তানদের পরীক্ষা নির্বিঘ্নে শুরু হোক- এই প্রত্যাশা নিয়েই তারা কেন্দ্রে এসেছেন। অনেককে পরীক্ষার্থীদের হাতে অ্যাডমিট কার্ড ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তুলে দিতে দেখা যায়। আবার কেউ শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা নিয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন, কেউ সন্তানের মাথায় হাত রেখে দোয়া করছেন।

প্রথম দিনের পরীক্ষা হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যেই ছিল বাড়তি উৎকণ্ঠা। সেই উৎকণ্ঠা কমাতে বাবা-মায়েরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পাশে ছিলেন। পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে প্রবেশের সময় হাসিমুখে উৎসাহ দিচ্ছেন, ভালো পরীক্ষা দেওয়ার শুভকামনা জানাচ্ছেন, এমন দৃশ্যও চোখে পড়েছে।

উত্তরার রাজউক মডেল কলেজ কেন্দ্রের সামনে কথা হয় অভিভাবক আমেনা বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমার ছেলে সকাল থেকেই কিছুটা দুশ্চিন্তায় ছিল। তাই নিজেই পরীক্ষাকেন্দ্রে নিয়ে এসেছি।

তিনি বলেন, ওকে কেন্দ্রে ঢুকিয়ে দিয়েছি। পরীক্ষা শেষ হলে আবার নিয়ে যাব।

একই কেন্দ্রের সামনে অপেক্ষা করছিলেন আরেক অভিভাবক রফিকুল আবসার। তিনি বলেন, প্রথম দিনের পরীক্ষা হওয়ায় সন্তানের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা চাপ ছিল। তাই পরীক্ষা শুরু না হওয়া পর্যন্ত পাশে থেকে সাহস জুগিয়েছি।

আরেক অভিভাবক এনামুল বাবলু বলেন, সন্তানের পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রের বাইরেই অপেক্ষা করব। সন্তান যেন নিশ্চিন্তে পরীক্ষা দিতে পারে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা। সেজন্য দুআ করছি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯ হাজার ৪৩৯টি এবং মোট পরীক্ষাকেন্দ্র ২ হাজার ৬৯৭টি। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন শিক্ষার্থী ১ হাজার ৬২৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪৬১টি কেন্দ্রে অংশ নেবে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১০টি কেন্দ্রে অংশ নেবে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থী।

/আরএইচটি/এমএসএ