সারাদেশের মতো চট্টগ্রামেও শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার মধ্য দিয়ে এবারের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়।
সকাল থেকে নগরের চট্টগ্রাম কলেজ, হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, কাজেম আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, পরীক্ষা শুরুর আগে থেকেই পরীক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে কেন্দ্রগুলো। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি হিসেবে কেউ কেউ বই-নোটে চোখ বুলাচ্ছিলেন, আবার কেউ সহপাঠীদের সঙ্গে শেষ সময়ের আলোচনা সারছিলেন। কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষমাণ অভিভাবকদের চোখেমুখে ছিল উদ্বেগ আর সন্তানের জন্য শুভকামনার ছাপ। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে প্রতিটি কেন্দ্রের বাইরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থান দেখা গেছে।
চট্টগ্রাম কলেজ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন, ‘পরীক্ষা নিয়ে কিছুটা স্নায়ুচাপ থাকলেও শেষ পর্যন্ত প্রস্তুতি ভালো ছিল। প্রশ্ন ভালো হলে ভালো ফল করার আশা রাখছি।’ সরকারি সিটি কলেজের শিক্ষার্থী মো. রাফি হোসেনের কণ্ঠেও ছিল আত্মবিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রের পরিবেশ বেশ ভালো। এখন সবটুকু মনোযোগ পরীক্ষার খাতায়।’
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার বোর্ডের অধীন পাঁচ জেলায় মোট পরীক্ষার্থী ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজার ৯৭৫ জন। অর্থাৎ, এবার পরীক্ষার্থী কমেছে ৩ হাজার ২৮৭ জন। তবে পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা ১১৫ থেকে কমে ১১৪টি হলেও অংশগ্রহণকারী কলেজের সংখ্যা বেড়ে ২৮৩টিতে দাঁড়িয়েছে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের তুলনায় চট্টগ্রাম নগরে পরীক্ষার্থী কমেছে ১১ হাজার ৭৯৭ জন। তবে নগরের বাইরে বিভিন্ন উপজেলায় পরীক্ষার্থী বেড়েছে ১০ হাজার ৮২৪ জন। এছাড়া কক্সবাজারে ১২ হাজার ২৫৫ জন, রাঙামাটিতে ৫ হাজার ৪৩৯ জন, খাগড়াছড়িতে ৭ হাজার ৩৫৩ জন এবং বান্দরবানে ৩ হাজার ৬৬৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন।
এদিকে, পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর ২০০ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করেছে। গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্রের আশপাশে অস্ত্রশস্ত্র, বিস্ফোরক বা যেকোনো ধরনের মারাত্মক বস্তু বহন, মিছিল-সমাবেশ, উচ্চস্বরে গান-বাজনা বা মাইক্রোফোন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একইসঙ্গে ফটোকপির দোকানগুলোও বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, পরীক্ষা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আয়োজনে বোর্ডের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি রাখা হচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের বোর্ডের নির্দেশনা মেনে কেন্দ্রে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, তিন ঘণ্টার এই পরীক্ষা শেষ হবে দুপুর ১টায়। রুটিন অনুযায়ী আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত এই লিখিত পরীক্ষা চলবে।
জেডএস
