২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল আগামী ৯ জুলাই প্রকাশ করা হতে পারে। ফল প্রস্তুতের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সব কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হলে ওই দিন আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বুধবার (১ জুলাই) অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ৯ জুলাই নির্ধারণ করা হয়।
বৈঠকে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন দ্রুততম সময়ে ফল প্রকাশের নির্দেশনা দেন। পরে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহের যেকোনো দিন ফল প্রকাশ করা সম্ভব। সে অনুযায়ী ৯ জুলাইকে সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে প্রস্তাব করা হলে তা গৃহীত হয়।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের শিক্ষা কর্মকর্তা (সাধারণ প্রশাসন) মো. আব্দুর রেজ্জাক সিদ্দিকী। ঢাকা পোস্টকে তিনি বলেন, বর্তমানে তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ (আইএমডি) ফল প্রস্তুতের কাজ করছে। মন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব কার্যক্রম শেষ হলে পরদিন মন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ফল প্রকাশ করা হবে।
তবে এর আগে কয়েক দফা সম্ভাব্য সময় জানানো হলেও বিভিন্ন কারণে ফল প্রকাশ সম্ভব হয়নি। প্রথমে মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ, পরে ঈদের আগে, ঈদের পরে এবং সর্বশেষ জুন মাসের মধ্যে ফল প্রকাশের কথা বলা হলেও প্রতিবারই তা পিছিয়ে যায়।
চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল বাংলা বিষয়ের পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হয়। ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে পরীক্ষা শেষ হয়। নির্ধারিত সময়ের প্রায় চার মাস পর এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
এবারের পরীক্ষায় অংশ নেয় ৬ লাখ ৪০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ এবং বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (কিন্ডারগার্টেন) প্রায় ৯০ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার মোট ৮২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী বৃত্তি পাবে। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ৬৬ হাজার এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ১৬ হাজার ৫০০টি বৃত্তি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর অনুপাতে সরকারি বিদ্যালয়ে প্রতি আটজনের মধ্যে একজন এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ে প্রায় সাড়ে পাঁচজনের মধ্যে একজন শিক্ষার্থী বৃত্তি পাওয়ার সুযোগ পাবে।
দুই ক্যাটাগরিতে বৃত্তি দেওয়া হবে। ট্যালেন্টপুলে (মেধাবৃত্তি) ৩৩ হাজার এবং সাধারণ কোটায় ৪৯ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী বৃত্তি পাবে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ট্যালেন্টপুলে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা মাসে ৩০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তরা মাসে ২২৫ টাকা করে পাবে। এ ছাড়া উভয় শ্রেণির শিক্ষার্থী বছরে এককালীন ২২৫ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে। পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ণ হওয়ার পরবর্তী দুই বছর তারা এই সুবিধা ভোগ করতে পারবে।
ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা অনলাইনে এবং মোবাইল ফোনের এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে পারবেন। অনলাইনে ফল প্রকাশ করা হবে আইপিইএমআইএস পোর্টালে। এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানার পদ্ধতি পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।
আরএইচটি/বিআরইউ
