বিজ্ঞাপন

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে ইউজিসির প্রশিক্ষক তৈরির উদ্যোগ

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে ইউজিসির প্রশিক্ষক তৈরির উদ্যোগ

নিজস্ব সক্ষমতার ভিত্তিতে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য টেকসই পেশাগত উন্নয়ন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এ লক্ষ্যে প্রথম ধাপে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫ জন জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও প্রশিক্ষক তৈরি করা হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের হাজারও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের দক্ষতা উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন তারা।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে এ তথ্য জানান ইউজিসির জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ জামিনুর রহমান।

তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য পেশাগত উন্নয়নে নতুন এ উদ্যোগ নিয়েছে ইউজিসি। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (১ জুলাই) কক্সবাজারের ওশান প্যারাডাইস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে সিনিয়র ফ্যাকাল্টি প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের ‘ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স (টিওটি)’-এর প্রথম ব্যাচের সনদ দেওয়া হয়। হায়ার এডুকেশন অ্যাকসেলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায় এ প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য দেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, উচ্চশিক্ষার গুণগতমান নিশ্চিত করতে দক্ষ ও দূরদর্শী অ্যাকাডেমিক নেতৃত্ব গড়ে তোলার বিকল্প নেই। আর এ কর্মসূচি শুধু একটি প্রশিক্ষণের সমাপ্তি নয়, বরং দেশের উচ্চ শিক্ষায় অ্যাকাডেমিক নেতৃত্ব বিকাশের নতুন যাত্রার সূচনা। আজ যারা মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে সনদ পেলেন, তারা নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পেশাগত উন্নয়ন, মানসম্মত পাঠদান, গবেষণায় নেতৃত্ব, সুশাসন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবেন।

মামুন আহমেদ বলেন, হিট প্রকল্পের পরবর্তী ধাপে আরও জাতীয় পর্যায়ের প্রশিক্ষক তৈরি করা হবে। মাস্টার ট্রেইনার ও ন্যাশনাল ট্রেইনারদের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারও শিক্ষক আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতি, মান নিশ্চিতকরণ, গবেষণায় নেতৃত্ব, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন ও শিল্প-অ্যাকাডেমিয়া সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ পাবেন। এজন্য বিদেশি সহায়তার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরশীল না থেকে দেশেই দক্ষ প্রশিক্ষক তৈরির মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর শিক্ষক উন্নয়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের সক্ষমতা দিয়েই ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরি করতে পারবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন– ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন খান, ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বস, হিট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান, অ্যাডভান্স এইচইর পরামর্শক ড. বেন ব্রাবন, দেশীয় পরামর্শক, সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫ জন মাস্টার ট্রেইনার এবং হিট প্রকল্পের কর্মকর্তারা।

টানা ১০ দিনের এই প্রশিক্ষণে কৌশলগত সুশাসন, মান নিশ্চিতকরণ, আন্তর্জাতিকীকরণ, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, শিক্ষাদান ও মূল্যায়ন, গবেষণা নেতৃত্ব এবং শিল্প-অ্যাকাডেমিয়া সহযোগিতাসহ উচ্চ শিক্ষার ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

এমআরআর/এসএএস/বিআরইউ