২০২৬ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কাঠামো ও মানবণ্টন চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করা হয়েছে। গত ৫ জুলাই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। আজ বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে এই কাঠামো পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ এর প্রস্তাবিত কাঠামো সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়।
জানা গেছে, পঞ্চম শ্রেণির এই বৃত্তি পরীক্ষা মোট ১০০ নম্বরের হবে এবং এর জন্য শিক্ষার্থীরা সময় পাবে ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। প্রশ্নপত্রে জ্ঞানমূলক, অনুধাবনমূলক, প্রয়োগমূলক এবং উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পরীক্ষা মূলত বাংলা, ইংরেজি, গণিত এবং যৌথভাবে প্রাথমিক বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের ওপর অনুষ্ঠিত হবে। এবারের পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের সব প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে এবং কোনো বিকল্প প্রশ্ন থাকবে না।
কোন বিষয়ে কত নম্বর?
জানা গেছে, বাংলা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হবে। যেখানে মোট ১৫টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। এর মধ্যে কবি ও কবিতার নামসহ কবিতার প্রথম ৮ পঙ্ক্তি লিখনের জন্য ১০ নম্বর বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া শব্দার্থ লিখন, বাক্য গঠন, শূন্যস্থান পূরণ, বহুনির্বাচনি প্রশ্ন, বিপরীত বা সমার্থক শব্দ লিখন, ভাষারীতি পরিবর্তন বা পদ নির্ণয়, অনুচ্ছেদ পড়ে প্রশ্ন তৈরিকরণ বা বিরামচিহ্ন প্রয়োগ, যুক্তবর্ণ বিভাজন, এককথায় প্রকাশ এবং ফরম পূরণ বা আবেদনপত্র লিখনের প্রতিটিতে ৫ নম্বর করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্নের জন্য ৮ নম্বর, বিস্তৃত-উত্তর প্রশ্নের জন্য ১৫ নম্বর, মূলভাব লিখনের জন্য ৫ নম্বর এবং রচনা লিখনের জন্য ১২ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইংরেজি বিষয়েও ১০০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পাঠ্যবই (ইংলিশ ফর টুডে) থেকে একটি এবং পাঠ্যবইয়ের বাইরে থেকে একটি টেক্সট বা ডায়ালগ দেওয়া থাকবে। সিন টেক্সট থেকে শব্দ মেলানো বা সত্য-মিথ্যা নির্ণয়ে ৫ নম্বর, বাক্য গঠনে ৫ নম্বর এবং ৬টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের জন্য ১৮ নম্বর থাকবে। আনসিন টেক্সট থেকে শূন্যস্থান পূরণে ৫ নম্বর এবং ৩টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের জন্য ৯ নম্বর বরাদ্দ করা হয়েছে। গ্রামার ও রাইটিং অংশে পার্টস অব স্পিচ বা টেন্স পরিবর্তনে ৫ নম্বর, সাফিক্স-প্রিফিক্স বা আর্টিকেলে ৬ নম্বর, ডব্লিউএইচ কোশ্চেন তৈরিতে ৫ নম্বর, শব্দ বা বাক্য রিঅ্যারেঞ্জ করায় ৭ নম্বর এবং ক্যাপিটালাইজেশন ও পাংচুয়েশনে ৫ নম্বর থাকবে।
এছাড়া ফরম পূরণ বা সময়-সংখ্যার শূন্যস্থানে ৫ নম্বর, ভার্বের সঠিক রূপে ৫ নম্বর এবং লেটার, অ্যাপ্লিকেশন বা ইমেইল রাইটিং ও শর্ট কম্পোজিশনের প্রতিটিতে ১০ নম্বর করে বরাদ্দ করা হয়েছে।
গণিত পরীক্ষায় সংক্ষিপ্ত ও যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্ন থাকবে। ১০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্নে ১০ নম্বর, ১০টি শূন্যস্থান পূরণে ১০ নম্বর এবং ১৬টি সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্নে ১৬ নম্বর থাকবে। ৪ থেকে ১১ নম্বর পর্যন্ত যোগ্যতাভিত্তিক ৮টি বড় সমস্যা থাকবে, যার প্রতিটির মান সমান এবং মোট নম্বর ৬৪। এর মধ্যে চার প্রক্রিয়া সম্পর্কিত সমস্যা, লসাগু ও গসাগু, সাধারণ ও দশমিক ভগ্নাংশ, শতকরা, গড়, পরিমাপ, জ্যামিতি (চিত্র অংকন ও বৈশিষ্ট্য) এবং উপাত্ত বিন্যস্তকরণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ৪ থেকে ৯ নম্বর প্রশ্নের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্রে অবশ্যই সমাধান করে দেখাতে হবে, শুধু উত্তর লিখলে কোনো নম্বর পাওয়া যাবে না।
প্রাথমিক বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়—এই দুটি বিষয় মিলে যৌথভাবে মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে, যেখানে প্রতিটি বিষয়ের জন্য ৫০ নম্বর করে বরাদ্দ থাকবে। উভয় বিষয়ের প্রশ্ন কাঠামো ও মানবণ্টন একই রকম করা হয়েছে। প্রতিটি বিষয়ে ৫টি বহুনির্বাচনি প্রশ্নে ৫ নম্বর, ৫টি শূন্যস্থান পূরণ বা সত্য-মিথ্যা নির্ণয়ে ৫ নম্বর, ৪টি মিলকরণ প্রশ্নে ৪ নম্বর, ৬টি সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্নে ১২ নম্বর এবং ৪টি বিস্তৃত উত্তর প্রশ্নে ২৪ নম্বর বরাদ্দ করা হয়েছে।
আরএইচটি/এমটিআই
