কয়েক দফা পিছিয়ে অবশেষে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রকাশের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী আজ সকাল ১০টা বা বেলা ১২টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফল প্রকাশের কথা থাকলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ফল প্রকাশের সুনির্দিষ্ট সময় নিয়ে এক ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ এখন পর্যন্ত ফল প্রকাশের প্রকৃত সময় নিশ্চিত করতে পারেননি।
বিষয়টি নিয়ে আজ সকালে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগের উপপরিচালক (সংস্থাপন) এ এস এম সিরাজুদ্দোহা ঢাকা পোস্টকে বলেন, ফল প্রকাশের জন্য আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। আমাদের তথ্য ব্যবস্থা বিভাগ (আইএমডি) গতকাল রাত ১২টা পর্যন্ত কাজ করেছে। যেহেতু আজ ফল প্রকাশের ডেডলাইন দেওয়া ছিল, সে অনুযায়ী কাজ চলেছে। তবে মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ শাখা (পিআরও) বিষয়টি সমন্বয় করছে। মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের এখনো ফাইনাল টাইম বা সময় জানায়নি। তবে আমরা প্রস্তুত আছি।
এর আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ৯ জুলাই নির্ধারণ করা হয়েছিল। ওই বৈঠকে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশের কঠোর নির্দেশনা দেন। মন্ত্রীর নির্দেশনার পর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানায়, জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের যেকোনো দিন ফল প্রকাশ সম্ভব। পরে ৯ জুলাইকে সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে প্রস্তাব করা হলে তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
উল্লেখ্য, এর আগে কয়েক দফায় ফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হলেও বিভিন্ন জটিলতায় তা পিছিয়ে যায়। প্রথমে মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ, এরপর পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে ও পরে এবং সর্বশেষ জুন মাসের মধ্যে ফল প্রকাশের কথা বলা হলেও প্রতিবারই তা স্থগিত করতে হয়।
চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল বাংলা বিষয়ের পরীক্ষার মাধ্যমে এবারের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের প্রায় চার মাস পর এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবারের পরীক্ষায় সারা দেশের মোট ৬ লাখ ৪০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে ৫ লাখ এবং বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (কিন্ডারগার্টেন) প্রায় ৯০ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার দুই ক্যাটাগরিতে মোট ৮২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হবে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে (মেধাবৃত্তি) ৩৩ হাজার এবং সাধারণ কোটায় ৪৯ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী বৃত্তি পাবে। কোটা বণ্টনের ক্ষেত্রে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ৬৬ হাজার এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ১৬ হাজার ৫০০টি বৃত্তি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর অনুপাতে সরকারি বিদ্যালয়ে প্রতি আটজনের মধ্যে একজন এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ে প্রায় সাড়ে পাঁচজনের মধ্যে একজন শিক্ষার্থী বৃত্তি পাওয়ার সুযোগ পাবে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ট্যালেন্টপুলে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা প্রতি মাসে ৩০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা প্রতি মাসে ২২৫ টাকা করে পাবে। এ ছাড়া উভয় শ্রেণির বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা প্রতি বছর এককালীন ২২৫ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে। পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার পরবর্তী দুই বছর (ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণি) তারা এই সুবিধা ভোগ করতে পারবে।
ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা ঘরে বসেই অনলাইনে এবং মোবাইল ফোনের এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে পারবেন। অনলাইনে সমন্বিত প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনা উইন্ডো বা আইপিইএমআইএস (IPEMIS) পোর্টালে ফল প্রকাশ করা হবে। মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানার বিস্তারিত পদ্ধতি ফল প্রকাশের পর আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
আরএইচটি/এনএফ
