বিজ্ঞাপন

গবেষণা প্রস্তাবের দুই সপ্তাহের মধ্যেই অর্থ ছাড়ের পরিকল্পনা ইউজিসির

গবেষণা প্রস্তাবের দুই সপ্তাহের মধ্যেই অর্থ ছাড়ের পরিকল্পনা ইউজিসির

গবেষণা কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতা কমাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। ২০২৬–২৭ অর্থবছর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাঠানো গবেষণা প্রস্তাব পাওয়ার সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহের মধ্যেই প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড়ের পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে অ্যাকাডেমিক স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রেখে গবেষণা বাজেটের স্বচ্ছ ও কার্যকর বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছে ইউজিসি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইউজিসি অডিটোরিয়ামে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের গবেষণা বাজেট বাস্তবায়ন বিষয়ে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। 

তিনি বলেন, গবেষণা খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের সুষ্ঠু, কার্যকর ও স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে একটি সমন্বিত কমিটি গঠন করা হবে। একই সঙ্গে গবেষণা বাজেট ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবায়নের জন্য একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করবে ইউজিসি। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গবেষণা বাজেট একটি নির্দিষ্ট কোডের মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। ইউজিসি সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে, তবে পুরো কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে, যাতে একটি কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়।

তিনি জানান, ২০২৬–২৭ অর্থবছরে গবেষণা খাতে ২২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ অর্থ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উপখাতে ব্যয় করা হবে। অর্থবছরের শুরুতেই স্নাতক, স্নাতকোত্তর, এমফিল ও পিএইচডি পর্যায়ের গবেষণার জন্য প্রস্তাব আহ্বান করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় গবেষণা প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে ইউজিসিতে পাঠাবে। পরে জাতীয় অগ্রাধিকার ও গবেষণার গুণগত মান বিবেচনায় অর্থায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সভায় বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব কোডের পরিবর্তে ইউজিসির কোডে গবেষণা বাজেট বরাদ্দ দেওয়ায় কিছু প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে সরকারের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দীর্ঘদিনের স্বায়ত্তশাসনের চর্চা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

এ সময় ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান, অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম এবং অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া দেশের ৪৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, তাদের মনোনীত প্রতিনিধি এবং ইউজিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও অংশ নেন।

আরএইচটি/বিআরইউ