বিজ্ঞাপন

১০০ স্কুলে ১ বছরের জন্য চালু হচ্ছে খান একাডেমির গণিত শিক্ষা প্রকল্প

১০০ স্কুলে ১ বছরের জন্য চালু হচ্ছে খান একাডেমির গণিত শিক্ষা প্রকল্প

দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের গণিত শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৭টি জেলার মোট ১০০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১ বছর মেয়াদে ‘খান একাডেমি বাংলাদেশ’-কে কার্যক্রম বাস্তবায়নের অনুমোদন দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

সম্প্রতি মাউশির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইং থেকে জারি করা এক স্মারকে এ তথ্য জানানো হয়। সাজেদা ফাউন্ডেশনের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও পঞ্চগড়—এই ৭টি জেলার নির্বাচিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে। সাজেদা ফাউন্ডেশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মাউশি এই কর্মসূচির নীতিগত অনুমোদন ও সম্মতি জ্ঞাপন করেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য হলো বিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষকদের শিক্ষণ দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের গণিত বিষয়ে ভালো ফলাফল বা শিখনফল অর্জনে সহায়তা করা। এর আওতায় শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থীদের জন্য ‘খান একাডেমি বাংলাদেশ’ প্ল্যাটফর্মের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় ডিজিটাল ডিভাইস স্থাপন ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হবে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত শিখনগত সহায়তা, কর্মশালা আয়োজন এবং প্রতি মাসে এর অগ্রগতি মনিটরিং ও রিপোর্টিং করা হবে।

তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মাউশি বেশ কিছু কঠোর শর্তারোপ করেছে। শর্তানুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই কার্যক্রম পরিচালনাকালে জাতীয় ও ধর্মীয় চেতনা পরিপন্থি কোনো কাজ করা যাবে না। শ্রেণি কার্যক্রমে বা সাধারণ ক্লাস চলায় কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটানো যাবে না। জেলা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারদের সহায়তায় বিদ্যালয়গুলো নির্বাচন করতে হবে এবং চূড়ান্ত তালিকার জন্য মাউশির অনুমোদন নিতে হবে।

স্মারকে আরও উল্লেখ করা হয়, অনুমোদিত কার্যক্রমের যেকোনো পরিবর্তন, পরিমার্জন কিংবা প্রকল্পের পরিধি ও মেয়াদ হ্রাস-বৃদ্ধির ক্ষেত্রে মাউশির পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক। উপজেলা, জেলা ও আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা নিয়মিত এই কার্যক্রম তদারকি করবেন এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা সাজেদা ফাউন্ডেশন এই তদারকির সার্বিক ব্যয়ভার বহন করাসহ সব ধরনের সহযোগিতা দেবে। 

এছাড়া প্রতি তিন মাস পর পর এবং বার্ষিক অগ্রগতি প্রতিবেদন মাউশি অধিদপ্তরে জমা দিতে হবে। মাউশি কর্তৃপক্ষ চাইলে যেকোনো সময় এই কার্যক্রম বাতিল করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করে। একই সঙ্গে প্রকল্প চলাকালীন সরকারকে দেওয়া স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করতেও বলা হয়েছে।

আরএইচটি/এসএম

বিজ্ঞাপন