প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় এবার শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সরকারি, মাদ্রাসা ও কারিগরি—তিন ধারার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেন এত শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি, তা সরকার গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। ভবিষ্যতে অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও নেওয়া হবে।
রোববার (১২ জুলাই) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫-এর ফল প্রকাশের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এবার ৮২ হাজার ৫০০টি বৃত্তির সবগুলো পূরণ হয়নি। প্রায় সাড়ে তিন হাজার আসন ফাঁকা রয়েছে। অনেক বিদ্যালয় বৃত্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই নিজস্বভাবে শিক্ষার্থী বাছাই করে। এবার পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে এপ্রিল মাসে হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী আগ্রহ হারিয়েছে। নতুন বইও অনেকের কাছে ছিল না। ফলে উপস্থিতির হার কমেছে।
তিনি বলেন, সরকারি বিদ্যালয়ে প্রায় ৩৩ শতাংশ, মাদ্রাসায় ৪৫ শতাংশ এবং কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫৪ শতাংশ শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। এত বেশি অনুপস্থিতির কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উপবৃত্তির অর্থ বাড়ানো প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে কারিগরি শিক্ষায় উপবৃত্তি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা প্রতি সেমিস্টারে মাসিক ভাতা, ফরম পূরণ এবং বই কেনাসহ মোট চার হাজার টাকা পাচ্ছে। এই সহায়তা আরও বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে উপবৃত্তির আওতায় শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন পাঠ্যবিষয় চালুর আগে শিক্ষক প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি বলেন, বিদ্যমান শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয়ে জেলা পর্যায় থেকে সহায়তা নিশ্চিত করাসহ একটি রোডম্যাপ প্রস্তুত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে সিন্ডিকেট থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, অতীতে এমন প্রবণতা থাকলেও বর্তমান সরকার কাউকে ছাড় দেবে না। গণমাধ্যমে সুনির্দিষ্ট তথ্য এলে দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃত্তি পরীক্ষার ফল আগেভাগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কম্পিউটার অপারেটরের ভুলে কয়েকটি ফল অল্প সময়ের জন্য প্রকাশ হয়েছিল। পরে তা সরিয়ে ফেলা হয় এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগের কাজ চলমান রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রশিক্ষণ দিয়ে পর্যায়ক্রমে কর্মস্থলে পাঠানো হবে।
আরএইচটি/এসএম
