টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চরম ভোগান্তির মধ্যেই সোমবার (১৩ জুলাই) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোথাও কোমরসমান পানি ভেঙে, কোথাও নৌকায় করে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগের বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।
ঢাকা পোস্টেকে তিনি বলেন, কোথায় কী সমস্যা হয়েছে, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে কাজ করছে বোর্ড।
যদিও এর আগে আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করে জানিয়েছিল, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী (৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারী (৮৮ মিলিমিটারের বেশি) বৃষ্টিপাত হতে পারে। সেই সতর্কতার মধ্যেই চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ছাড়া দেশের অন্য সব শিক্ষা বোর্ডে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে সকালে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতার কারণে নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে হিমশিম খান অনেকেই। বিশেষ করে পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
কুমিল্লায় পরিস্থিতি ছিল আরও কঠিন। জেলার ১-২টি এলাকায় কোমরসমান পানি ভেঙে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে যেতে দেখা যায়। একটি কেন্দ্রে নৌকায় করে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
শিক্ষার্থীদের এমন দুর্ভোগ নিয়ে জানতে চাইলে সোমবার দুপুরে ঢাকা পোস্টকে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত দেশের কোথাও এ ধরনের কোনো সমস্যা ছিল না। শুধু ঢাকায় পানির বিষয়টি হয়েছে। আমরা সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছি। কোথায় কী সমস্যা হয়েছে, সেসব তথ্য সংগ্রহ করছি। পরবর্তী করণীয় কী হবে, সেটি নিয়েও কাজ চলছে।’
আজই এ বিষয়ে কোনো জরুরি বৈঠক হবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যেকোনো সময় বৈঠকে বসতে পারি। তবে এখনো সে রকম কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আপাতত আমরা বিভিন্ন জায়গার তথ্য সংগ্রহ করছি।’
কুমিল্লার পরিস্থিতি সম্পর্কে বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, ‘কুমিল্লার একটি কেন্দ্রে সমস্যা হয়েছিল। সেখানে স্থানীয় প্রশাসন, মেয়রসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সহযোগিতা করেছেন। কিছুটা ভোগান্তি হলেও কোনো পরীক্ষার্থী বড় ধরনের জটিলতায় পড়েনি। আমাদের কাছে শিক্ষার্থীদের বিষয়টিই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’
এর আগে রোববার (১২ জুলাই) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ছাড়া দেশের অন্য সব শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। তবে বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড এবং ওই বোর্ডের আওতাধীন মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ১৩, ১৫ ও ১৬ জুলাইয়ের পরীক্ষা আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থগিত থাকবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, সিলেট, বরিশাল, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের (চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন জেলা ছাড়া) আওতাধীন সব জেলার পরীক্ষা পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সব জেলার পাশাপাশি ওই বোর্ডের আওতাধীন মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের জন্য ১৩, ১৫ ও ১৬ জুলাইয়ের এইচএসসি, আলিম, এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) এবং ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।
আরএইচটি/এসএএস
