দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ঘাটতির জন্য শিক্ষার্থী বা শিক্ষক নন, বরং নীতিনির্ধারকেরাই দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভাইস-চ্যান্সেলর) অধ্যাপক ড. এএসএম আমানুল্লাহ।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময়েও দেশে সময়োপযোগী ও দক্ষতানির্ভর শিক্ষাক্রম গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। এর ফলে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী কর্মবাজারের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
রোববার (১৯ জুলাই) সাভারের ব্র্যাক সিডিএমে ইউনিসেফ বাংলাদেশের কারিগরি সহযোগিতায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত চার দিনব্যাপী ‘রিসোর্স ম্যাটেরিয়ালস ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, এ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষে এআইভিত্তিক ‘অ্যাপ্লাইড আইসিটি’ কোর্স বাধ্যতামূলক করে শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী দক্ষতা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। ভবিষ্যতের কর্মবাজারে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ভিত্তিক ‘অ্যাপ্লাইড আইসিটি’ গেম চেঞ্জার হবে। তাই প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান বাস্তবতায় প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য ডিজিটাল সক্ষমতা, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা এবং বাস্তব সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা অপরিহার্য।
তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও সনদের মান নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও এখানকার অসংখ্য গ্র্যাজুয়েট নিজ যোগ্যতায় দেশ-বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তবে দক্ষতাভিত্তিক পাঠ্যক্রমের ঘাটতির কারণে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী কর্মবাজারের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ বাস্তবতার জন্য শিক্ষার্থী বা শিক্ষক নয়, বরং নীতিনির্ধারকেরাই দায়ী।
ড. আমানুল্লাহ বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংস্কারের মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করা। আইসিটি শিক্ষাকে বাস্তবভিত্তিক ও প্রয়োগমুখী করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সাইবার সিকিউরিটি, ডিজিটাল মার্কেটিং, গিগ ইকোনমি ও ফ্রিল্যান্সিংয়ে দক্ষ করে তোলা গেলে তারা উচ্চশিক্ষা ও বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুত হবে এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি জানান, আইসিটি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে আরও কার্যকর করতে কাজ চলছে। বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে তৈরি প্রশিক্ষণ মডিউল ও রিসোর্স ম্যাটেরিয়াল আরও সমৃদ্ধ করে দেশের প্রতিটি কলেজে পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে সেগুলো শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত রেফারেন্স ও গাইডলাইন হিসেবে কাজে লাগে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রশিক্ষণ দপ্তরের পরিচালক সালমা পারভীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের চিফ অব এডুকেশন দীপা শংকর। স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কেন্দ্রের ডিন অধ্যাপক ড. এ এইচ এম রুহুল কুদ্দুস।
আরএইচটি/এমএসএ
