বিজ্ঞাপন

এইচএসসি ২০২৬

দুর্যোগ কেটেছে, মন্ত্রণালয়ের অনুমতির অপেক্ষায় চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা

দুর্যোগ কেটেছে, মন্ত্রণালয়ের অনুমতির অপেক্ষায় চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা

বন্যা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হওয়ায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন স্থগিত থাকা ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের অবশিষ্ট পরীক্ষা গ্রহণের মতো পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বোর্ড। তবে পরীক্ষা পুনরায় শুরুর জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে তারা।

এদিকে মন্ত্রণালয়ের সবুজ সংকেত মিললেই স্থগিত পরীক্ষাগুলো শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে ঢাকা পোস্টকে তিনি এ তথ্য জানান।

পরীক্ষা পুনরায় শুরু করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রফেসর ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, ‘পরীক্ষা নেওয়ার মতো পরিস্থিতি আছে। আমরা আন্তঃশিক্ষা বোর্ড ও মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাদের অনুমতি দিলে ইনশাআল্লাহ পরীক্ষা শুরু করব।’

এর আগে, বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক অবস্থা, পরীক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বিবেচনায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের অবশিষ্ট সব পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামের পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি, পরীক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা, অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের কারণে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাতায়াতে সৃষ্ট দুর্ভোগ বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ সিদ্ধান্তের ফলে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসি পরীক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষার অবশিষ্ট সব বিষয়ও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, স্থগিত পরীক্ষাগুলোর সংশোধিত সময়সূচি পরবর্তী সময়ে পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।

তবে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন জেলার বাইরে অন্যান্য শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষাগুলো পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী যথারীতি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ৮ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।

এদিকে, চলতি বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯ হাজার ৪৩৯টি এবং মোট পরীক্ষাকেন্দ্র ২ হাজার ৬৯৭টি। এর মধ্যে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীনে ১ হাজার ৬২৬টি, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪৬১টি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১০টি কেন্দ্র রয়েছে।

বোর্ডভিত্তিক হিসেবে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে, যেখানে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ লাখ ৩৯৩ জন। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন, যশোরে ১ লাখ ১৭ হাজার ২১০ জন, দিনাজপুরে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯ জন, চট্টগ্রামে ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন, কুমিল্লায় ৯৪ হাজার ৮০২ জন, ময়মনসিংহে ৭৩ হাজার ৩৭ জন, সিলেটে ৭১ হাজার ৭১১ জন এবং বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।

আরএইচটি/এসএম