দেশের শিক্ষার্থীদের ছোটোবেলা থেকেই স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহার ও পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তুলতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। সদ্য অনুমোদিত জাতীয় পাবলিক টয়লেট নীতিমালা-২০২৬ এ বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নীতিমালার আলোকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ পাঁচটি মন্ত্রণালয়কে যৌথভাবে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা দপ্তরগুলোকে সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় পাবলিক টয়লেট নীতিমালা-২০২৬ এর খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদনের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে।
গত ২১ জুলাই জারি করা ওই নির্দেশনায় বলা হয়, নীতিমালার আলোকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহার ও স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন অগ্রগতির প্রতিবেদন স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের উপসচিব ড. মো. মনিরুল ইসলামের সই করা আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
নীতিমালার দ্বিতীয় অধ্যায়ের ‘শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা’ শিরোনামের অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, শিশু-কিশোরদের স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, পরিবার ও সমাজকেও সম্পৃক্ত করতে হবে। এ লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে ইতিবাচক আচরণ গড়ে তুলতে ধারাবাহিক প্রচার, প্রশিক্ষণ ও উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। এর মাধ্যমে তারা নিজেরা স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস গড়ে তোলার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজেও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিতে পারবে।
জাতীয় পাবলিক টয়লেট নীতিমালায় পাবলিক স্পেস, সড়ক ও মহাসড়কের উপযোগী স্থানে নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক টয়লেট নির্মাণের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় বাধ্যতামূলকভাবে সেপটিক বা সেফটি ট্যাংক স্থাপনের নির্দেশনা রাখা হয়েছে, যাতে নদী, খাল বা জলাশয়ের পানি দূষিত না হয়। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগ ও সড়ক পরিবহন-সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমন্বয়ের মাধ্যমে মহাসড়কে প্রয়োজনীয় পাবলিক টয়লেট স্থাপনের উদ্যোগ নিতেও বলা হয়েছে।
আরএইচটি/বিআরইউ
