বিজ্ঞাপন

জালিয়াতির অভিযোগে মাদরাসার সুপারসহ ৮ জনের বেতন-ভাতা স্থগিত

জালিয়াতির অভিযোগে মাদরাসার সুপারসহ ৮ জনের বেতন-ভাতা স্থগিত

মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) প্রতিনিধির নাম ও স্বাক্ষর জাল, ভুয়া নিয়োগ বোর্ড গঠন এবং জাল ফলাফল বিবরণী তৈরি করে শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্তির (মান্থলি পে-অর্ডার) আবেদন করার অভিযোগে দেশের বিভিন্ন মাদরাসার সুপার ও অধ্যক্ষসহ আটজনের এমপিওভুক্ত বেতন-ভাতা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে কেন তাদের এমপিও সুবিধা স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে তিন কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নির্দেশ দিয়েছে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।

সোমবার (২৭ জুলাই) অধিদপ্তরের অর্থ শাখার সহকারী পরিচালক ও এমপিও বাছাই কমিটির সদস্যসচিব মোহাম্মদ শুকুর আলম মজুমদারের সই করা পৃথক নোটিশে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদরাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী গঠিত ‘এমপিও বাছাই ও অনুমোদন কমিটি’ চলতি জুলাই মাসে জমা পড়া নতুন এমপিও আবেদন যাচাই-বাছাই করে। এ সময় একাধিক প্রতিষ্ঠানে ভুয়া নিয়োগ বোর্ড গঠন, ডিজির প্রতিনিধির জাল চিঠি ও স্বাক্ষর ব্যবহার এবং ভুয়া ফলাফল বিবরণী সংযুক্ত করে শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্তির আবেদন করার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়।

যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ

তদন্তে দেখা যায়, ভোলা জেলার চরফ্যাসন উপজেলার ঢালচর ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসায় গবেষণাগার/ল্যাব সহকারী পদে মো. আ. রাজ্জাকের এমপিও আবেদনে ডিজির প্রতিনিধির জাল চিঠি ও স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির সুপার মো. আমির হোসেনের (ইনডেক্স : B2025830) এমপিওভুক্ত বেতন-ভাতা স্থগিত করা হয়েছে।

একই উপজেলার আমিনাবাদ ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মোহাম্মদ নুর-নবীর (ইনডেক্স : B2014413) বিরুদ্ধে ডিজির প্রতিনিধির পাশাপাশি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষরও জাল করে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পার্টগাছি শান্তিরাম বালিকা দাখিল মাদরাসায় অফিস সহকারী পদে মো. শাহিন মিয়া এবং দক্ষিণ শ্রীপুর কুরুয়াবাদা ইসলামিয়া বালিকা দাখিল মাদরাসায় একই পদে মো. একরামুল হকের এমপিও আবেদনে জাল চিঠি ও ভুয়া ফলাফল বিবরণী ব্যবহার করা হয়েছে। এ কারণে পার্টগাছি মাদরাসার সুপার মোহাম্মদ আলী আকন্দ (ইনডেক্স : M0031062) এবং দক্ষিণ শ্রীপুর মাদরাসার সুপার মো. আনোয়ার হোসেনের (ইনডেক্স : M0008911) বেতন-ভাতা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার ফজিলা শরীফ বালিকা দাখিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মোহাম্মদ আলীর (ইনডেক্স : R398612) বিরুদ্ধে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও নিরাপত্তা কর্মী—এই তিনটি পদের এমপিও আবেদনে জাল কাগজপত্র ও স্বাক্ষর ব্যবহারের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

এছাড়া নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার ধামইরহাট ছিদ্দিকীয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসায় আয়া পদে সুরাইয়া আক্তার পুতুলের এমপিও আবেদনে জালিয়াতির অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. রবিউল আলমের (ইনডেক্স : R397019) এমপিওভুক্ত বেতন-ভাতা স্থগিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার পুটিবিলা ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. আমির হোসেন (ইনডেক্স : C315268) এবং সহকারী শিক্ষক জান্নাত আরা বেগমের (ইনডেক্স : C2011963) এমপিওভুক্ত বেতন-ভাতা পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) অডিট প্রতিবেদনের সুপারিশ এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের নির্দেশনার ভিত্তিতে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদরাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬-এর ১৮.১(গ) ও ১৮.১(ঙ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অভিযুক্তদের তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পাওয়া গেলে অথবা জবাব গ্রহণযোগ্য না হলে তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে জাল কাগজপত্রের ভিত্তিতে সুপারিশ করা সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও আবেদনও বাতিল করা হয়েছে।

আরএইচটি/এমএন