বিজ্ঞাপন

দ্বৈত চাকরির অভিযোগে ২ মাদ্রাসা শিক্ষকের এমপিও স্থগিত

দ্বৈত চাকরির অভিযোগে ২ মাদ্রাসা শিক্ষকের এমপিও স্থগিত

একইসঙ্গে একাধিক পদে কর্মরত থেকে সরকারি বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগে চাঁদপুর ও পটুয়াখালীর দুই এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষকের বেতন-ভাতা (এমপিও) সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। একই সঙ্গে কেন তাদের এমপিও সুবিধা স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অর্থ শাখার সহকারী পরিচালক (অর্থ) ও এমপিও বাছাই এবং অনুমোদন কমিটির সদস্যসচিব মোহাম্মদ শুকুর আলম মজুমদারের সই করা পৃথক দুটি নোটিশে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের একজন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার দারুল এখলাছ আমেনা (রা.) মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. ইকরাম হোসেন। অন্যজন পটুয়াখালীর দশমিনা ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার আরবি বিভাগের প্রভাষক মো. তানভীরুল ইসলাম। 

নোটিশে বলা হয়, মো. ইকরাম হোসেন মাদ্রাসার সুপার হিসেবে এমপিওভুক্ত বেতন-ভাতা গ্রহণের পাশাপাশি চাঁদপুর জেলা সাব-পোস্ট অফিসের অতিরিক্ত বিভাগীয় (ইডিএ) পোস্টমাস্টার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণ করে আসছিলেন।

অন্যদিকে, মো. তানভীরুল ইসলাম মাদ্রাসায় প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পটুয়াখালী জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পেশ ইমাম হিসেবে কর্মরত থেকে সম্মানী ভাতা গ্রহণ করছিলেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন পটুয়াখালী জেলা কার্যালয়ের স্মারক এবং স্থানীয় অনুসন্ধানের ভিত্তিতে জেলা মডেল মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভায় বিষয়টি প্রমাণিত হয়। তদন্তসভায় তিনি একই সঙ্গে দুই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে একটি পদ ছাড়ার জন্য এক মাস সময় চান।

অধিদপ্তরের মতে, এ ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে যে, তিনি মডেল মসজিদে নিয়োগের শর্তাবলি যথাযথভাবে অনুসরণ করেননি।

আদেশে বলা হয়েছে, ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা, ২০২৬’-এর ১১.১০ (ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী একই সঙ্গে একাধিক পদে চাকরি কিংবা অন্য কোনো আর্থিক লাভজনক পদে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না। এ বিধান লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অনুমোদনক্রমে সরাসরি এমপিও বাতিলের বিধান রয়েছে।

অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় দুই শিক্ষকের এমপিও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক ও গ্রহণযোগ্য লিখিত ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে তাদের এমপিও স্থায়ীভাবে বাতিলসহ বিধি অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

আরএইচটি/এমএসএ