বিজ্ঞাপন

গবেষণা প্রকল্প মূল্যায়নে জবাবদিহি বাড়ানোর উদ্যোগ ইউজিসির

গবেষণা প্রকল্প মূল্যায়নে জবাবদিহি বাড়ানোর উদ্যোগ ইউজিসির

হিট প্রকল্পের অ্যাকাডেমিক ইনোভেশন ফান্ডের আওতায় গবেষণা উপপ্রকল্প নির্বাচনে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, গবেষকদের আস্থা ফেরাতে নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেছেন, গবেষণা প্রকল্প মূল্যায়নের পুরো প্রক্রিয়াকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী আরও স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করা হচ্ছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমিতে হিট প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত ‘উপ-প্রকল্প মূল্যায়ন পরিচিতি’ শীর্ষক দিনব্যাপী আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, অ্যাকাডেমিক ইনোভেশন ফান্ডের আওতায় প্রথম পর্বে উপপ্রকল্পের মূল্যায়ন ও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষক মহলের একটি অংশে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছিল। সেই ধারণা দূর করে গবেষকদের আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন ইউজিসির প্রধান লক্ষ্য।

তিনি বলেন, গবেষণা প্রকল্প আহ্বান, মূল্যায়ন, অর্থায়ন, বাস্তবায়ন থেকে শুরু করে প্রকল্পের ফলাফল ও প্রভাব মূল্যায়ন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা হচ্ছে। দেশের বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গবেষণার মানোন্নয়নই এ তহবিলের মূল উদ্দেশ্য।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, দ্বিতীয় ধাপের গবেষণা প্রকল্পের আহ্বান প্রায় ছয় মাস আগে করা হলেও শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে সময় লেগেছে। প্রকল্প প্রস্তাবে নির্ধারিত তথ্য দিতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আবেদন প্রাথমিক পর্যায়েই বাদ পড়েছে।

তিনি বলেন, প্রকল্প মূল্যায়নে নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ নিশ্চিত করতে আবেদনকারীদের গবেষকের নাম ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচয় প্রস্তাবনা পত্রে উল্লেখ না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। প্রকল্প আহ্বানের বিজ্ঞপ্তিসহ মূল্যায়নের বিভিন্ন ধাপে এ বিষয়ে আবেদনকারীদের একাধিকবার অবহিত করা হয়। এরপরও অধিকাংশ গবেষণা প্রস্তাবে এসব নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়নি। নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী সেসব প্রস্তাব মূল্যায়ন প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় নতুন ব্যবস্থা চালুর কথাও জানিয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান আরও বলেন, প্রতিটি বিষয়ের জন্য পৃথক বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করা হয়েছে এবং প্রত্যেক মূল্যায়নকারীকে একটি স্বতন্ত্র পরিচিতি নম্বর দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি প্রকল্পের জন্য সম্ভাব্য ছয় থেকে আটজন বিশেষজ্ঞের তালিকা থেকে লটারির মাধ্যমে দুজন মূল্যায়নকারী নির্বাচন করা হয়েছে। এতে ব্যক্তি-নির্ভরতা কমবে এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত হবে।

আলোচনা সভায় ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব, অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান খান, অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন, অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ চৌধুরী এবং হিট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. আসাদুজ্জামানসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরএইচটি/এসএএস