সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য জরুরি ভিত্তিতে চেয়েছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। আগামী ৩ আগস্টের মধ্যে অধিদপ্তরের আওতাধীন সব প্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য নির্ধারিত ছকে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. রাকিবুল হাসানের সই করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের নির্দেশনার আলোকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বন্যায় কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন কোনো প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো বা স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে প্রতিষ্ঠানের নাম, জেলা ও উপজেলা, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার নাম, ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ এবং আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ করে নির্ধারিত ছকে তথ্য পাঠাতে হবে। এসব তথ্যের হার্ডকপির পাশাপাশি ‘নিকস ফন্ট’-এ প্রস্তুত করা সফটকপি জরুরি ভিত্তিতে ই-মেইল ([email protected]) ঠিকানায় পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনার সঙ্গে সংযুক্ত আরেকটি চিঠিতে সাম্প্রতিক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার ৫৯টি উপজেলা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং পানিবন্দী অবস্থায় ছিলেন ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১১টি পরিবার। বন্যা, পাহাড়ধস ও পাহাড়ি ঢলে এ পর্যন্ত ৫৪ জনের মৃত্যু এবং ৩৯ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া, বন্যা-পরবর্তী ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— কৃষকদের জন্য সার ও বীজের বিশেষ সহায়তা প্যাকেজ, পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ২১১ কিলোমিটারের বেশি সড়ক ও ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ।
আরএইচটি/এসএএস
