বাংলাদেশের ৬১টি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১২৫০ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষা বৃত্তি দিয়েছে ইতমিনান বোর্ড। দেশের ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও মানসম্মত করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বোর্ডটি।
বুধবার (২৯ জুলাই) ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি)-তে ২০২৫ সালের বৃত্তি পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জন করায় শিক্ষার্থীদের এই সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এতে সারা দেশ থেকে ৬১টি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১২৫০ জন শিক্ষার্থীর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।
২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় এক হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা ইসলামী শিক্ষার পাশাপাশি জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুযায়ী পাঠ গ্রহণ করছে। তাদের সম্পূর্ণ সিলেবাস প্রণয়ন করেছে ইতমিনান বোর্ড বাংলাদেশ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর বলেন, হাফেজ বা মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ শুধু ইমামতি বা খতিবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তারা চাইলে রাষ্ট্রের উচ্চপদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেও নিজেদের যোগ্যতা ও দক্ষতার মাধ্যমে অবদান রাখতে পারেন। তিনি বলেন, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে আলেমেরা দায়িত্ব পালন করলে দেশ ও সমাজের নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ আরও সুষ্ঠু, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখীভাবে পরিচালিত হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি আলেমদের ব্যাপক সম্মান ও উচ্চ বেতনে কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে কাজ চলছে। এ বিষয়ে শিগগিরই ইতিবাচক অগ্রগতির খবর পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বোর্ডের প্রধান মাওলানা মুফতি মুসা খান জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে দেশের আরও অধিকসংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এই শিক্ষাব্যবস্থার আওতায় আনা, প্রযুক্তিনির্ভর মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করা এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য, মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লা হিল বাকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ গোলালাম রাব্বানী, আন্তর্জাতিক ক্বারি আহমদ বিন ইউসুফ আল-আজহারী প্রমুখ।
এনটি
