শিক্ষার্থীদের কেবল ডিগ্রিধারী গ্র্যাজুয়েট হিসেবে নয় বরং শিল্পখাতের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ ও কর্মোপযোগী মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় এমন শিক্ষার্থী তৈরি করতে চায়, যারা কর্মজীবনের প্রথম দিন থেকেই দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে প্রতিষ্ঠানের জন্য মূল্য সংযোজন করতে সক্ষম হবে।
শনিবার (১ আগস্ট) গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের সেন্টার ফর ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট (সিসিডি) আয়োজিত ‘এইচআর সামিট–২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন বলেন, এই আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ। কারণ, এখানে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ (এইচআর) প্রধান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং করপোরেট নেতারা অংশ নিয়েছেন। তাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে, যার মাধ্যমে তারা শিল্পখাতের বাস্তব চাহিদা, প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং কর্মক্ষেত্রের প্রত্যাশা সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারবে।
তিনি বলেন, সম্মেলনে তিনটি প্যানেল আলোচনা ও দুইটি রাউন্ড টেবিল সংলাপের আয়োজন করা হয়েছে। এসব আলোচনার মূল উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের শিল্পখাতের চাহিদা অনুযায়ী প্রস্তুত করা, যাতে তারা কর্মজীবনে প্রবেশের প্রথম দিন থেকেই কার্যকর অবদান রাখতে পারে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, এআইয়ের বর্তমান বাস্তবতাকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে যেমন হাইব্রিড ও দূরবর্তী কর্মসংস্কৃতির ব্যাপক প্রসার ঘটেছে, তেমনি এআই কর্মক্ষেত্রের ধরন, কাজের পদ্ধতি এবং সাংগঠনিক সংস্কৃতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। তাই পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা।
তিনি বলেন, এআইয়ের কারণে অনেক কাজ স্বয়ংক্রিয় হয়ে যাচ্ছে। আগে সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক কোডার প্রয়োজন হতো। এখন শুধু কোড লেখা নয়, বরং কোড বুঝতে, বিশ্লেষণ করতে এবং প্রযুক্তির কার্যকারিতা মূল্যায়ন করতে পারে— এমন দক্ষ জনবলই বেশি প্রয়োজন। সে কারণেই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের শুধু কোডার নয়, বরং প্রযুক্তিকে গভীরভাবে বুঝতে সক্ষম দক্ষ পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।
প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি সততা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, হাইব্রিড বা দূরবর্তী কর্মপরিবেশে কাজ করতে হলে আত্মনিয়ন্ত্রণ, জবাবদিহি ও পেশাগত সততা বজায় রাখার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। পরিবর্তনকে গ্রহণ করে তার সঙ্গে অভিযোজিত হওয়ার মধ্যেই ভবিষ্যতের সফলতা নিহিত।

উপাচার্য আরও বলেন, বর্তমান বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনের যুগে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা আর শুধু নিয়োগ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন সাংগঠনিক রূপান্তর, ডিজিটাল সক্ষমতা এবং নেতৃত্ব বিকাশের অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। যে প্রতিষ্ঠান তার মানবসম্পদে বিনিয়োগ করে না, সেই প্রতিষ্ঠান দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও সফল হতে পারে না।
তিনি বলেন, গ্রিন ইউনিভার্সিটি শুধু ডিগ্রি দেওয়াতেই বিশ্বাসী নয় বরং নৈতিক, দক্ষ, সহমর্মী এবং পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজিত একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে কাজ করছে। তবে এই লক্ষ্য অ্যাকাডেমিয়া একা অর্জন করতে পারে না। এজন্য শিল্পখাত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কার্যকর অংশীদারত্ব এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অপরিহার্য।
জানা গেছে, গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের সেন্টার ফর ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট (সিসিডি) আয়োজিত এই জাতীয় সম্মেলনে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৩০ জনের বেশি খ্যাতনামা মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞ, করপোরেট নির্বাহী ও শিল্পখাতের নেতারা অংশ নেবেন।
আজ দিনভর অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে সম্মেলনে শিল্প-অ্যাকাডেমিয়া সহযোগিতা জোরদার, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, নেতৃত্ব বিকাশ, কর্মসংস্থান-উপযোগী দক্ষতা এবং ভবিষ্যতের দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
এ ছাড়া, তিনটি প্যানেল আলোচনা ও দুইটি রাউন্ড টেবিল সংলাপে দেশের বিশিষ্ট মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞ ও করপোরেট নেতারা ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতা নিয়ে মতবিনিময় করছেন।
আরএইচটি/এসএএস
