বিজ্ঞাপন

স্কুলে বুলিং ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ, শিক্ষার্থীদের জন্য আসছে মূল্যায়ন অ্যাপ

স্কুলে বুলিং ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ, শিক্ষার্থীদের জন্য আসছে মূল্যায়ন অ্যাপ

মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধীন বাস্তবায়নাধীন ‘লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন’ প্রকল্পের আওতায় শিক্ষার্থীদের শিখন মূল্যায়নের জন্য মোবাইল অ্যাপ, আধুনিক লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলএমএস) এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুলিং ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে একাধিক কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) প্রকাশিত প্রকল্পের বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা (এপিপি) অনুযায়ী, গত ২ আগস্ট এতে অনুমোদন দেন মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ।

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির আওতায় ১২টি সেবা প্যাকেজে মোট ৩৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে। প্রকল্পের প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন ইউনিটের (পিআইইউ) প্রস্তুত করা এ পরিকল্পনায় ডিজিটাল শিক্ষা, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ৭ কোটি টাকা ব্যয় হবে দুই বছর মেয়াদি জাতীয় শিক্ষার্থী মূল্যায়ন কার্যক্রমে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের জন্য একটি আধুনিক লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলএমএস) তৈরি করা হবে। আন্তর্জাতিক মানের এ কার্যক্রমের বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৮ সালের ১০ জুন পর্যন্ত।

এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের শিখনফল মূল্যায়নের জন্য একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরিতে ৩ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। স্কুলে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, বুলিং প্রতিরোধ ও সচেতনতা বাড়াতে টেলিভিশন বিজ্ঞাপন (টিভিসি) নির্মাণ ও প্রচারে ৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধবিষয়ক বিশেষ সমীক্ষা পরিচালনায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহারকে গুরুত্ব দিয়ে মাধ্যমিক পর্যায়ের মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ মূল্যায়ন এবং আইসিটি প্রশিক্ষণের চাহিদা নিরূপণে ২ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি দেশের ৬৪০টি স্কুল ও মাদ্রাসায় ভোকেশনাল বা কারিগরি কোর্স চালুর পাইলট কার্যক্রম মূল্যায়নে ৮০ লাখ টাকা এবং মাধ্যমিক শিক্ষায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে গবেষণায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা বাড়াতে ডেপুটি টিম লিডার (জাতীয়) নিয়োগে ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মিড-টার্ম রিভিউ পরিচালনায় ১ কোটি টাকা, পিআইইউর জন্য তিনটি যানবাহন ভাড়ায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং ৩০ (ম্যান-মান্থ) মাস মেয়াদে আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ নিয়োগে ১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

আরএইচটি/এমএসএ