এবারের এসএসসি-সমমান পরীক্ষার সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করলেও শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রেই পা রাখেননি ৩৮ হাজার শিক্ষার্থী। এর মধ্যে অনুপস্থিত থাকা পরীক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে। শুধু এ বোর্ডেই পরীক্ষা দেননি ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে প্রকাশিত ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার পর ১১ শিক্ষা বোর্ডের পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে এ চিত্র।
চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ৬৭ হাজার ৬১৪ জন শিক্ষার্থীর অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরীক্ষা দিয়েছেন ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন। অর্থাৎ ৩৮ হাজার ১২৯ জনই অনুপস্থিত ছিলেন।
পরিসংখ্যানের তথ্যানুযায়ী, ঢাকা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৭৮৮ জন। এর মধ্যে অংশ নিয়েছেন ৩ লাখ ৬৪ হাজার ১৮৪ জন। এ বোর্ডে ২ হাজার ৬০৪ জন শিক্ষার্থীই পরীক্ষা দেননি। ঢাকা বোর্ডে মোট পাস করেছেন ২ লাখ ৬০ হাজার ৮৬৪ জন ও ফেল করেছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ২০ জন। পাসের হার ৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ।
রাজশাহী বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৫২ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪৪ জন পরীক্ষা দিয়েছেন। অনুপস্থিত ছিলেন ২ হাজার ৯০৮ জন। এ বোর্ডে ১ লাখ ১২ হাজার ৮৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। অনুত্তীর্ণের সংখ্যা ৬৩ হাজার ৯৫৮। গড় পাসের হার ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
কুমিল্লা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ২২৫ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৩৫ জন পরীক্ষা দিয়েছেন। অনুপস্থিত ছিলেন ১ হাজার ৩৯০ জন। এ বোর্ডে ৯৫ হাজার ৩৯৯ জন পাস করেছেন। ফেল করেছেন ৫০ হাজার ৪৩৬ জন। পাসের হার ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ।
যশোর বোর্ডে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮০৭ জন পরীক্ষার্থী ছিলেন। ১ লাখ ৩২ হাজার ৯৪০ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। অনুপস্থিত ছিলেন ২ হাজার ৮৬৭ জন। এ বোর্ডে ৮৮ হাজার ৯৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। অনুত্তীর্ণের সংখ্যা ৪৪ হাজার ৮৪৩। পাসের হার ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ।
চট্টগ্রাম বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ জন। এর মধ্যে পরীক্ষা দিয়েছেন ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৪৬৩ জন। এ বোর্ডে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন। ফেল করেছেন ৫২ হাজার ৭৬৬ জন। পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
বরিশাল বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিলেন ৮২ হাজার ৯০১ জন। এর মধ্যে পরীক্ষা দিয়েছেন ৮০ হাজার ৪৫৮ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ২ হাজার ৪৪৩ জন। এ বোর্ডে ৪৮ হাজার ৫৫৫ জন উত্তীর্ণ ও ৩১ হাজার ৯০৩ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছেন। পাসের হার ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
সিলেট বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৮৯ হাজার ৬৮৬ জন। এর মধ্যে ৮৯ হাজার ৭৯ জন পরীক্ষা দিয়েছেন। অনুপস্থিত ছিলেন ৬০৭ জন। এ বোর্ডে ৫১ হাজার ৯৫৭ জন উত্তীর্ণ ও ৩৭ হাজার ১২২ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছেন। পাসের হার ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
দিনাজপুর বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৯৪ জন। এর মধ্যে পরীক্ষা দিয়েছেন ১ লাখ ৮০ হাজার ৭৫২ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ২ হাজার ৯৪২ জন। এ বোর্ডে ১ লাখ ৪ হাজার ৯২৫ জন পাস ও ৭৫ হাজার ৮২৭ জন ফেল করেছেন। পাসের হার ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশ।
ময়মনসিংহ বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখ ৯ হাজার ৬১৩ জন। এর মধ্যে পরীক্ষা দিয়েছেন ১ লাখ ৫ হাজার ২৮ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৪ হাজার ৫৮৫ জন। এ বোর্ডে ৬০ হাজার ২৭৪ জন পাস এবং ৪৪ হাজার ৭৫৪ জন ফেল করেছেন। পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিলেন ৩ লাখ ৭ হাজার ৮৭ জন। এর মধ্যে পরীক্ষা দিয়েছেন ২ লাখ ৯৬ হাজার ৯৮২ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ১০ হাজার ১০৫ জন। এ বোর্ডে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৯৯৭ জন উত্তীর্ণ ও ১ লাখ ৩২ হাজার ১৮৫ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছেন। পাসের হার ৫৫ দশমিক ১৯ শতাংশ।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৫ হাজার ১৭৯। এর মধ্যে ১ লাখ ২৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭ হাজার ২১৫। এ বোর্ডে ৭৪ হাজার ৪৭০ জন পাস করেছেন। ফেল করেছেন ৫৩ হাজার ৪৯৪ জন। পাসের হার ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ।
এমআরআর/জেআই
