বিজ্ঞাপন

আইডিয়াল স্কুলে এসএসসিতে ৫৫ ফেল, ‘উৎসাহ বোনাস’ নিয়ে প্রশ্ন

আইডিয়াল স্কুলে এসএসসিতে ৫৫ ফেল, ‘উৎসাহ বোনাস’ নিয়ে প্রশ্ন

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো ফল এবং শতভাগ পাসের নিশ্চয়তা দিয়ে রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল থেকে প্রায় এক কোটি টাকা ‘উৎসাহ বোনাস’ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির ৫৫ জন শিক্ষার্থী ফেল করেছে। এ ছাড়া, ফরম পূরণ করেও চারজন পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। এ ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।

প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, এবার মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিভিন্ন শাখা থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য ২ হাজার ৭৮২ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করে। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ২ হাজার ৭৭৮ জন। পাস করেছে ২ হাজার ৭২৩ জন। সে হিসাবে পাসের হার ৯৮ দশমিক ০২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৪৯০ জন।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এবার ২ হাজার ৫৩৮ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ২ হাজার ৫০৭ জন পাস করেছে এবং ৩৩ জন ফেল করেছে। এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৪৬৩ জন। অন্যদিকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় ২৪০ জন। তাদের মধ্যে ২১৬ জন পাস করেছে, ২২ জন ফেল করেছে এবং ২৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে মানবিক বিভাগ নেই।

প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের শেষ দিকে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো ফল এবং শতভাগ পাসের নিশ্চয়তার কথা বলে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রায় এক কোটি টাকা উৎসাহ বোনাস দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই অর্থ সরকারের অনুমোদিত খাতের বাইরে ব্যয় করা হয়েছে। অভিভাবকদের কেউ কেউ এই ব্যয়কে প্রতিষ্ঠানের অর্থের অপব্যবহার হিসেবে দেখছেন।

শিক্ষক-কর্মচারীদের ওই বোনাস দেওয়ার পর এবারই প্রথম এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। ফলে ফলাফল নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, কয়েক বছর আগেও প্রতিষ্ঠানটির এসএসসি পরীক্ষার্থীদের শতভাগ পাসের নজির ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে এবং জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও কমছে।

এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে শিক্ষার্থী ফেল করার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ অভিভাবক ফোরাম। ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিয়াউল কবির দুলু, বনশ্রী ক্যাম্পাসের সভাপতি মো. আহসান উল্ল্যা মানিক এবং মুগদা ক্যাম্পাসের আহ্বায়ক আ স ম আলমগীর এক যৌথ বিবৃতিতে ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান দিন দিন অবনতি হচ্ছে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকরা আন্তরিকতার সঙ্গে যথাযথভাবে পাঠদান করছেন না বলে অভিযোগ করা হয়। শিক্ষকদের নিজস্ব কোচিং কার্যক্রমে ব্যস্ততার কারণে স্কুলের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষাদান ব্যাহত হচ্ছে বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়।

অভিভাবক ফোরামের দাবি, আগে প্রতিষ্ঠানটির এসএসসি পরীক্ষার্থীদের শতভাগ পাসের রেকর্ড ছিল। কিন্তু গত দুই বছরে ফেলের সংখ্যা বেড়েছে।

অভিভাবক ফোরামের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত বছর এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফল এবং শতভাগ পাসের নিশ্চয়তার কথা বলে শিক্ষক-কর্মচারীদের সরকারের অনুমোদিত খাতের বাইরে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল থেকে কোটি কোটি টাকা উৎসাহ বোনাস দেওয়া হয়েছিল। এ বছরও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ফেল করায় ওই অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্নও তুলেছেন তারা।

ফোরামের নেতারা আগামী এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য এখন থেকেই অতিরিক্ত ক্লাস চালু, শিক্ষকদের আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠদান নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের ফল খারাপ হওয়ার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে প্রতিষ্ঠানের এডহক কমিটিকে যথাযথ নির্দেশনা দেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

অন্যদিকে, উৎসাহ বোনাস ও ফলাফল নিয়ে জানতে চাইলে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ লাল মোহাম্মদ বলেন, সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় আমাকে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব দিয়েছে। এর আগে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক ছিল না। ফলে কারা কীভাবে উৎসাহ বোনাস নিয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।

ফলাফল প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ বলেন, এ বছর সারা দেশের ফলাফল কিছুটা খারাপ হয়েছে। তারপরও আগামীতে শতভাগ পাস এবং আরও বেশি জিপিএ-৫ পাওয়ার লক্ষ্যে শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগামীতে প্রতিষ্ঠানটির ফলাফল আরও ভালো হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আরএইচটি/এসএএস

বিজ্ঞাপন