চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুলে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় নেমে এসেছে চরম হতাশা। বিদ্যালয়টি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করতে পেরেছে মাত্র ১ জন, আর বাকি ৬ জনই অকৃতকার্য হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটিতে পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ।
শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ওই বিদ্যালয় থেকে মাত্র সাতজন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। সম্প্রতি প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, তাদের মধ্যে ছয়জনই ফেল করেছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, মিরসরাই উপজেলার ৫০টি উচ্চবিদ্যালয় থেকে এ বছর মোট ৪ হাজার ৯৫২ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩ হাজার ৩৩ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ১ হাজার ৯১৯ জন। উপজেলায় সার্বিক পাসের হার ৬১ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২২৭ জন শিক্ষার্থী।
বিদ্যালয়ের এমন বিপর্যয়কর ফলাফলের বিষয়ে রেসিডেনশিয়াল মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক অরুণ চন্দ্র নাথ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের বইয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততা কমে যাওয়া এবং অভিভাবকদের কথা না শোনাই এই খারাপ ফলাফলের প্রধান কারণ।’
তিনি দাবি করেন, ওই সাত শিক্ষার্থীকে এবার পরীক্ষায় বসতে দেওয়ার পক্ষে ছিলেন না তিনি। চেয়েছিলেন তাদের আরও এক বছর স্কুলে রেখে উপযুক্ত প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দেওয়ানো হোক। কিন্তু অভিভাবকদের চাপের মুখেই শেষ পর্যন্ত তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হয়েছে।
সামাজিক অবক্ষয় ও বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার বিষয়ে আগের মতো শাসন করা সম্ভব হয় না উল্লেখ করে প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, ‘বিদ্যালয়ের ইতিহাসে এমন খারাপ ফল আগে কখনো হয়নি। কোন কোন বিষয়ে দুর্বলতা ছিল এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিতে কোথায় ঘাটতি ছিল, তা বিশ্লেষণ করে আগামী বছর ফল উন্নয়নের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফেরদৌস হোসেন বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের ফল খারাপ হওয়ার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, দুর্বল বিষয় চিহ্নিত করে অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করা এবং শিক্ষক-অভিভাবকের সমন্বয়ের ওপর জোর দেন তিনি।
শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, বিদ্যালয়টির সার্বিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে শিক্ষা ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করা হবে এবং সে অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আতিকুল হা-মীম/এমএসএ
